
রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের গোপালপুর মৌজায় ২৬ শতক জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। দলিল ও খতিয়ানে মালিকানা থাকার দাবি করা পক্ষের অভিযোগ, বিবাদীরা তাদের জমিতে যেতে বাধা দিচ্ছেন। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে মামলা হলেও মীমাংসা না হওয়ায় উচ্চ আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৪ নম্বর হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের ১০২/২০২৬ নম্বর মামলার ১৩ আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধীয় জমিটি গোপালপুর/৪১ মৌজার ১৭৮২ নম্বর দাগের। জমির পরিমাণ ০.২৬ একর। এর এসএ খতিয়ান ৩৫১, আরএস খতিয়ান ২০৭ এবং প্রস্তাবিত খতিয়ান ৮১২৬।

নথি অনুযায়ী, বাদীপক্ষের কাছে একাধিক বণ্টননামা ও সাব-কবলা দলিল এবং নিজ নামে প্রস্তাবিত খতিয়ান রয়েছে। অন্যদিকে বিবাদীপক্ষের দাবি করা দলিলের বিষয়ে তদন্তে ওয়ারিশ গোপন করে সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগ উঠে এসেছে।
গত ১৯ জুলাই গ্রাম আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিবাদীপক্ষের কয়েকজন অনুপস্থিত ছিলেন এবং আব্দুল হক টুনু গ্রাম আদালতের মীমাংসা মানবেন না বলে জানান। পরে বিবাদী সাইদুল ইসলাম জানান, বাদীর অনুমতি নিয়ে তিনি ওই জমিতে বসবাস করছেন। তবে ইসমাইল হোসেন, নাইম হোসেন ও আব্দুল হক টুনুসহ কয়েকজন জমিতে স্থায়ীভাবে থাকার চেষ্টা করছেন বলে বাদীপক্ষ অভিযোগ করেছে।
গ্রাম আদালতের প্যানেল চেয়ারম্যান-২ মো. মুসফিকুর রহমান রাসেলের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা সম্ভব না হওয়ায় গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান সম্ভব নয়। এ অবস্থায় বাদীপক্ষকে উচ্চ আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
মালিকপক্ষের ওয়ারেন্ট অফিসার এস এম সেলিম বলেন, “আমাদের কাছে জমির দলিল-খতিয়ান রয়েছে। গ্রাম আদালতে প্রতিকার না পাওয়ায় এখন আইনগতভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
মালিকপক্ষের দাবি, তাদের বৈধ মালিকানা থাকা সত্ত্বেও জমিতে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় তারা ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী প্রতিকার নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


