
আমির হামজা, স্টাফ রিপোর্টারঃ
তীব্র শীত উপেক্ষা করে পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কৃষকেরা। ভোর থেকেই পেঁয়াজের চারা হাতে মাঠে নামছেন তারা। কোথাও চলছে নতুন করে পেঁয়াজ রোপণ, আবার কোথাও জমি থেকে মুড়িকাটা বা ঢেমনা পেঁয়াজ উত্তোলনের কাজ।

সরেজমিনে পুঠিয়া উপজেলার ভাল্লুকগাছি, জিউপাড়া, শিলমাড়িয়া ও বানেশ্বর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সারিবদ্ধ লাইনে লাইনে কৃষকেরা হাতে পেঁয়াজের চারা নিয়ে জমিতে রোপণ করছেন। শীতের প্রকোপে শ্রমিক সংকট দেখা দিলেও জীবিকার তাগিদে কাদাপানি মাড়িয়ে মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

এদিকে ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নের কান্তার বিলে দেখা গেছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। সেখানে মাইক বাজিয়ে গানের তালে পেঁয়াজ রোপণ করছেন কৃষকেরা। কাজের একঘেয়েমি কাটাতে এবং সবাইকে উৎসাহিত রাখতে কাজের ফাঁকে নাচতেও দেখা যাচ্ছে তাদের।
কান্তার বিলে কর্মরত চাষি সোহাগ, নাহিদসহ কয়েকজন জানান, শীতের সময় অনেক শ্রমিক মাঠে নামতে চান না। তাই কাজের গতি বাড়ানো এবং শ্রমিকদের মনোবল চাঙা রাখতে দলবদ্ধভাবে গান চালিয়ে কাজ করছেন তারা। এতে একদিকে কাজের গতি বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষকদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনাও তৈরি হচ্ছে।
চাষিদের একটি দলের গ্রুপ প্রধান রকিবুল ইসলাম ফারুক বলেন, তার দলে ১৪ জন শ্রমিক রয়েছেন। তারা প্রতিদিন গড়ে দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণের কাজ করেন। চলতি মৌসুমে তার দল প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণের কাজ সম্পন্ন করেছে।
একদিকে রোপণ কার্যক্রম চললেও অন্যদিকে উপজেলার অনেক জমিতে মুড়িকাটা বা ঢেমনা পেঁয়াজ উত্তোলন শুরু হয়েছে। শীত মৌসুমে পুঠিয়া উপজেলায় দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজ চাষ হয়ে থাকে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে ভালো ফলন পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বানেশ্বর ইউনিয়নের কৃষকেরা।
সরেজমিনে বানেশ্বর ইউনিয়নের শিবপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মোতালেব হোসেন চার বিঘা, মনসুর আলী দুই বিঘা এবং আশরাফ আলী এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। পুঠিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলায় এক হাজার ২৫০ জন কৃষক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ রোপণ করেছেন।
চাষিদের ভাষ্য অনুযায়ী, মুড়িকাটা জাতের তুলনায় এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজে লাভ বেশি। প্রতিটি পেঁয়াজের গড় ওজন প্রায় ২৫০ গ্রাম। চার থেকে পাঁচটি পেঁয়াজে এক কেজি ওজন হয়।
চাষি মনসুর আলী জানান, তিনি ইতোমধ্যে এক বিঘা জমি থেকে ১০০ মন পেঁয়াজ উত্তোলন করে প্রতি মন এক হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। আরও প্রায় ৫০ মন পেঁয়াজ উত্তোলনের আশা করছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, চলতি শীত মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পেঁয়াজ চাষে কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছর উপজেলায় মোট চার হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করা হয়েছে। প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৩৩০ জন কৃষককে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।


