
টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টি ও ঝড়ে ঠাকুরগাঁওয়ের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সবজি ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন ফসলি জমি ঘুরে দেখা যায়, অনেক সবজি ক্ষেত পানির নিচে।ভুট্টার ক্ষেতে গাছগুলো প্রায় সব হেলে পড়েছে। পাকা ধানের ক্ষেতে পানি ওঠায় চাষিরা ধান কাটতে পারছেন না। কুমড়া চাষিরা ক্ষেত থেকে ছোটো অবস্থায় তুলে ফেলছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। ফসল নষ্ট হয়ে গেলে সেই ঋণ পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে—এমন আশঙ্কা করছেন তারা। এ অবস্থায় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
সদর উপজেলার রহিমান পুরের কৃষক সোহেল রানা বলেন, ‘আমরা ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করি। যদি ফসলই না থাকে, তাহলে কীভাবে ঋণ শোধ করব। এখন একমাত্র ভরসা আবহাওয়া ভালো হওয়া আর সরকারের সহায়তা।’
কৃষি অধিদপ্তরের সূত্র মতে, শুধু ঝড়ের কারণে ভূট্টা ৩৫৮ হেক্টর, মরিচ ৯৪, শাকসবজি ২১, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ১, আম লিচু ও পেঁপে মিলে ৩৮২ এবং কলা ৭ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে লাগাতার ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এই ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বেশি হবে।’
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে মাটির ভেতর অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়, যা গাছের শিকড়ের জন্য ক্ষতিকর। এতে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয় এবং রোগ-বালাই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ছত্রাকজনিত রোগ বাড়ার ঝুঁকি থাকে, যা ফসলের পচনকে ত্বরান্বিত করে।
এদিকে মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, অনেক কৃষক নিজ উদ্যোগে ছোট ছোট নালা কেটে পানি সরানোর চেষ্টা করছেন। তবে টানা বৃষ্টির কারণে পানি নামার গতি খুবই ধীর। ফলে তাদের এই চেষ্টাও অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। তাই দ্রুত পানি নিষ্কাশন, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকদের সহায়তায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠেছে।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক আলমগীর কবির বলেন, টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবজি ও ভুট্টা চাষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে এবং প্রয়োজনে রোগবালাই দমনে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে।
অতিরিক্ত উপপরিচালক আরো বলেন, ‘যেসব জমিতে পানি বেশিদিন থাকে, সেখানে পরবর্তী চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করতে বাড়তি যত্ন নিতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া যায়।’


