
সিলেট নগরীর সুধী সমাবেশে গিয়ে উপস্থিত স্থানীয়দের মুখে দুলাভাই দুলাভাই ধ্বনির মুখে মধুর সমস্যায় পড়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একপর্যায় দুলাভাই দুলাভাই ধ্বনিতে সমাবেশের মঞ্চে বক্তব্য শুরু করতে পারছিলেন না প্রধানমন্ত্রী। শনিবার (২ মে) সিলেট নগরীর সুধী সমাবেশের মঞ্চে দুলাভাই দুলাভাই ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে এমন সমস্যার সম্মুখীন হন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় তারেক রহমান বলেন, ‘দুলাভাই কথা বললে শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের শুনতে হবে কথা। দুলাভাইকে কথা বলতে না দিলে তো দুলাভাই যাবে গিয়া। যাই আমি, কথা বলবো না যাবো?’
সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, আমাদের জন্য বড় একটি সমস্যা হচ্ছে মাটির নিচ থেকে পানি তোলা। কৃষিকাজের জন্যও পানি তুলছি। এটি ধীরে ধীরে ভয়াবহ অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে পুরো পরিস্থিতি। আমরা যদি এই পরিস্থিতিকে এখনই মোকাবিলা করতে চাই, তাহলে প্রথম কাজটি হচ্ছে আমাদের খাল খনন করতে হবে।
সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, বৃষ্টির কারণে বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন রাস্তা নির্মাণ করলে ফসলের ক্ষতি হবে। তিনি বলেন, সিলেটের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল দ্রুত চালু করে ১২শ শয্যায় উন্নীত করা হবে। মানুষকে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখাই মানুষের লক্ষ্য।
সিলেট নগরবাসীকে সচেতন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্লাস্টিক, পলিথিন ও কাগজসহ অন্যান্য বর্জ্যদ্রব্য যাতে যত্রতত্র না ফেলি। বিষয়টি যদি সিটি করপোরেশনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছোট ছোট বাচ্চাদের শেখানো যায়, এটি তাদের মাথায় গেথে থাকবে এবং সে তাদের মা-বাবাকেও শেখাতে বাধ্য করবে। শুধু সিলেট সিটি করপোরেশন নয়, এটি সব সিটি করপোরেশনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাচ্চাদের শেখাতে পারলে আমরা ধীরে ধীরে পরিবেশকে ঠিক করে আনতে পারব।
এর আগে, সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম সিলেট সফর। সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি বিশেষ বাসে চড়ে শহরের দিকে যাত্রা করেন। সফরের শুরুতেই তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।
উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে। এটি তার প্রয়াত শ্বশুর ও সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের পৈতৃক বাড়ি হিসেবেও পরিচিত।


