
জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন মানেই সাংবাদিকদের ভিড়। তবে আজকের অনুশীলনে সেই ভিড়ের মধ্যে নজর কাড়লেন দুই বিশেষ অতিথি। তারা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লেস্টার সিটির প্রতিনিধি এবং তাদের ঢাকায় আসার উদ্দেশ্য একটাই—বাংলাদেশের ফুটবলের পোস্টার বয় হামজা চৌধুরী।

অনুশীলন শুরুর আগেই টিম বাস থেকে নেমেই হাসিমুখে এই পরিচিত অতিথিদের সঙ্গে আলাপে মাতেন হামজা। লেস্টারের ভিডিও প্রডিউসার ড্যান টাগওয়েল জানালেন এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, ‘আমরা হামজাকে নিয়ে একটি বিশেষ ডকুমেন্টারি তৈরি করছি। ইংল্যান্ডে তার অংশের শুটিং শেষ। এবার তার বাংলাদেশ অধ্যায় ধারণ করতে এখানে এসেছ।’
তিনি জানান, চার দিনের এই সফরে তারা ভারত ম্যাচের পরপরই ফিরে যাবেন এবং ভিডিওটি ক্লাবের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হবে।
হামজাকে নিয়ে কেন এই বিশেষ উদ্যোগ? ড্যান ব্যাখ্যা করলেন, ‘হামজা ও লেস্টার যেন একই গল্পের দুই অংশ। লেস্টারেই তার বেড়ে ওঠা এবং সেখানে সে ভীষণ জনপ্রিয়।’
বাংলাদেশে হামজার এমন আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা দেখে বিস্মিত লেস্টারের প্রতিনিধিরা, ‘আমরা অবাক হয়েছি এখানে তার ম্যাচের প্রতি মানুষের এত আগ্রহ। শুনেছি মিনিটের মধ্যে টিকিট শেষ হয়ে যায়! বাংলাদেশে হামজার এমন প্রভাব সত্যিই বিস্ময়কর।’
হামজার এই জনপ্রিয়তার ঢেউ টের পেয়েছে ক্লাবের সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগও। লেস্টারের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম পেজে বাংলাদেশি সমর্থকদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহই এর প্রমাণ।
ড্যান যোগ করেন, ‘বাংলাদেশ থেকে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ এখন লেস্টারকে অনুসরণ করছে যে, আমরা আমাদের ম্যাচের সময়সূচিতে বাংলাদেশের টাইম জোনও যুক্ত করেছি।’
ড্যানের সঙ্গে ছিলেন লেস্টারের নিরাপত্তা প্রধান জ্যা ম্যান। তিনি হামজাকে ছোটবেলা থেকে চেনেন। তার চোখেও হামজার জন্য বিশেষ স্নেহ, ‘হামজা এখন কত বড় তারকা সেটা ভিন্ন বিষয়। আমি তাকে ছোটবেলা থেকেই চিনি। সে সবসময়ই এমন হাসিখুশি আর বিনয়ী।’
এর আগে লেস্টারের মিডিয়া টিম ঘানায় গিয়ে ক্লাবের আরেক তারকা আব্দুল ফাতাউকে নিয়েও একই ধরনের ভিডিও তৈরি করেছিল। হামজার ‘বাংলাদেশ অধ্যায়’ ধারণ করতে তারা সকালেই ঢাকায় পৌঁছেছেন এবং বিকেলেই ছুটে এসেছেন জাতীয় স্টেডিয়ামে।


