
স্টাফ রিপোর্টার: রাকিবুল ইসলাম
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণিকক্ষের সংকট, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও সুপেয় পানির অভাবে শিক্ষার পরিবেশ ছিল নাজুক। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তিনটি বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করেছে। এতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও উন্নত পরিবেশে পাঠদানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় জাহানাবাদ ইউনিয়নের ধোরসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মৌগাছী ইউনিয়নের বাটুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কেশরহাট পৌরসভার কেশরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ধোরসা বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৬৮ লাখ ৪১ হাজার ৫৩০ টাকা, কেশরহাট বিদ্যালয়ে ৮০ লাখ ৩১ হাজার ৭৮৩ টাকা এবং বাটুপাড়া বিদ্যালয়ে ৫৭ লাখ ৯৯ হাজার ৩৯৬ টাকা। ভবনগুলোতে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, উন্নত ওয়াশব্লক ও নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করা হয়েছে।
নতুন ভবন চালুর পর বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার পরিবেশে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। বেড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদান হয়েছে আরও কার্যকর। উন্নত স্যানিটেশন ও পানির ব্যবস্থায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমেছে।
তবে কেশরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ এখনও চলমান রয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ হলে সেখানকার শিক্ষার্থীরাও একই সুবিধা পাবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, “এলজিইডির এ প্রকল্প শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি মাইলফলক। নতুন ভবনগুলো শুধু অবকাঠামো নয়, বরং শিশুদের স্বপ্নপূরণের ভিত্তি। আমরা চাই প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদ ও আধুনিক পরিবেশে শিক্ষা লাভ করতে পারে। সরকারের এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, “এলজিইডি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। নির্মাণকাজ মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নতুন ভবনগুলোতে আধুনিক ডিজাইন, শক্তিশালী অবকাঠামো এবং শিশুবান্ধব সুবিধা রয়েছে। আমরা নিশ্চিত করেছি যেন কোনো ত্রুটি না থাকে।”
উপসহকারী প্রকৌশলী কর্মকর্তা রিপন আলী সরকার বলেন, মোহনপুর উপজেলার তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ এলজিইডির তত্ত্বাবধানে মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নির্মাণকাজে নির্ধারিত নকশা ও সরকারি মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। নতুন ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, উন্নত ওয়াশব্লক এবং নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও আনন্দদায়ক পরিবেশে পাঠগ্রহণ করতে পারে। আমরা আশা করছি, এই উন্নত অবকাঠামো শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ধোরসা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান জানান, আগে শ্রেণিকক্ষের অভাবে একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীকে পড়াতে হতো। এখন সেই সমস্যা নেই। বিশেষ করে উন্নত ওয়াশরুমের কারণে মেয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারিয়া বলে, “আগে বৃষ্টিতে ক্লাসরুমে পানি পড়ত। এখন নতুন কক্ষে পড়তে খুব ভালো লাগে।”
অভিভাবকরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নতুন ভবনের কারণে শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগ্রহ বেড়েছে এবং অনুপস্থিতি কমেছে।
এলজিইডির এই উদ্যোগ মোহনপুর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা ভবিষ্যতে শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


