
রাজশাহীর বাগমারায় সাত মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে কোলে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশী নারীর বিরুদ্ধে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে এ ঘটনা ঘটে, এতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে বাগমারা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালে প্রতিবেশী শিউলী বেগম, জাহিদ হাসানের মেয়ে জবাইদা আক্তারকে কোলে নিয়ে আদর করছিলেন। একপর্যায়ে শিশুটিকে নিয়ে নিজের বাড়িতে যান তিনি। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও শিশুসহ ফিরে না আসায় সন্দেহের সৃষ্টি হয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।
পরে শিশুটির মা সুরাইয়া আক্তার ইতি মেয়েকে আনতে শিউলীর বাড়িতে গেলে দেখেন, তিনি সেখানে নেই। এরপর আশপাশের এলাকা, অটোরিকশা স্ট্যান্ড ও বাসস্ট্যান্ডে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিরুপায় হয়ে বিষয়টি থানায় জানানো হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুরাইয়া আক্তার বলেন, “শিউলী প্রায়ই আমার মেয়েকে কোলে নিতেন। এভাবে নিয়ে যাবেন, তা কখনো ভাবিনি। আমি শুধু আমার মেয়েকে সুস্থভাবে ফিরে পেতে চাই।”
শিশুটির বাবা জাহিদ হাসান অভিযোগ করে বলেন, থানায় গিয়ে ওসি না থাকায় প্রথমে তাঁদের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ নেওয়া হয়নি। তবে পরে থানা থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং এ বিষয়ে একটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এখনো শিশুটির অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রতিবেশীরা জানান, অভিযুক্ত শিউলী বেগমের নিজেরও দুটি সন্তান রয়েছে। তিনি কিছুদিন আগে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। প্রায় দেড় মাস আগে সন্তানদের নিয়ে বাগমারার দানগাছিতে স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন। সম্প্রতি তাঁর আচরণ কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল বলেও জানান তাঁরা। ঘটনার সময় তিনি নিজের মুঠোফোন বাড়িতেই রেখে যান।
শিউলীর স্বামী বিদ্যুৎ হোসেন জানান, তিনি গাজীপুরে অবস্থান করছেন এবং ঘটনার কথা শুনে দ্রুত বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
এদিকে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবা-মা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।


