
আলমগীর হোসেন, রাজশাহী(বাগমারা) প্রতিনিধিঃ
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৫ রাজশাহী- ৪ বাগমারা আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে পিতা-পুত্র সহ ১১জন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তাদের মধ্য থেকে গত ৩রা নভেম্বর দলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি’র) মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭টি আসনে প্রার্থীতা ঘোষনা করেন। এই ঘোষণায় ৫৫-রাজশাহী -৪ বাগমারা আসনে,বাগমারা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডিএম জিয়াউর রহমানকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীতা ঘোষণা করা হয়। এর পর থেকেই মনোনয়নবঞ্চিত বাগমারা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক কামাল হোসেন এর কর্মী-সমর্থকদের বিরোধিতা দৃশ্যমান হতে থাকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও তার সমর্থকদের সাথে।
গত ৩রা নভেম্বর কে বা কাহারা গভীর রাতে মনোনয়ন বঞ্চিত বাগমারা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক কামাল হোসেন এর অনুসারী ১নং গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান এর একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে।
এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান গত ৬ই নভেম্বর তার পুকুর পাড়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সেখানে বিএনপি মনোনিত প্রার্থীর দিকে আঙ্গুল তুলে কথা বলেন এবং তার অনুসারীদের দোষারোপ করেন।
এঘটনায় ঐ দিনই ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের সংবাদ সম্মেলন এর বিরুদ্ধে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর অনুসারীরা সংবাদ সম্মেলন করেন।
সেখানে তারা উল্লেখ করেন চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের দীঘিতে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের ঘটনায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়ার নাম জড়িয়ে মনোনয়ন বঞ্চিত অপর এক প্রার্থী অধ্যাপক কামাল হোসেন এর অনুসারীরা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঐ সংবাদ সম্মেলনে গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে দাবি করেন, ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সম্প্রতি বোয়ালিয়া বিলে এলাকার কৃষকদের জমিতে দীঘি খনন করে মাছচাষ শুরু করেন।

মাছ বিক্রয় করে কৃষকদের জমির টাকা পরিশোধের কথা বলে গত মঙ্গলবার ভোরে তিনি তার দীঘিতে গ্যাস প্রয়োগ করে মাছ ধরে বিক্রি করেন। চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ছিলেন বাগমারা আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামাল হোসেনের অনুসারী। আর এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন বাগমারা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া।
এ কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বিএনপির প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া কে প্রশ্নবিদ্ধ করতে তার অনুসারীরা ওই দীঘিতে বিষ দিয়েছে বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাষ্টার সৈয়দ আলী, সাধারণ সম্পাদক শাহনাজ পারভীন, আয়নাল হক, আব্দুর রহমান ও আব্দুল জব্বার প্রমূখ।
গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাষ্টার সৈয়দ আলী বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর মাঠে থেকে বিএনপির জন্য রাজপথে ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন,একাধিক মামলা হামলা ও কারা বরন করেছেন। আমরা অনেক জুলুম–নির্যাতন সহ্য করেছি। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, রাজনৈতিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সেটাই হয়েছে।
আমরা সবাই ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ আছি।’
স্থানীয় সুত্রে ও লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায় চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান পুকুরটি খননের সময় গোবিন্দপাড়া গ্রামের মৃত দবির উদ্দিনের ছেলে আঃ সালাম ২৩-০৩-২৫ইং তারিখে তার ফসলি জমিতে জোরপূর্বক পুকুর খনন বন্ধের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে অভিযোগ করেন এবং ২৪ মার্চ জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। এর পরে একাধিকবার সেখানে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করেন এবং পুকুর খনন করতে নিষেধ করা হলেও হাবিবুর রহমান জোরপূর্বক পুকুরটি খনন করেছেন বলে জানান এলাকাবাসী। এতে করে জমির মালিকগনের সাথে চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের দফায় দফায় দন্দ হয়।
বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলাম বলেন বলেন, থানায় যেকোন বিষয়ে অভিযোগ বা এজাহার হলে আমরা অবশ্যই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


