
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের হাটতৈর গ্রামে এক অসহায় কৃষকের ফসল নষ্ট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী কৃষক ইনতাজ আলীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী এক ব্যক্তির ধারাবাহিক হয়রানিতে তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেওপুর গ্রামের বাপ্পারাজ নামের এক ব্যক্তি প্রায় এক বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে ইনতাজ আলীর বিভিন্ন ফসল নষ্ট করে আসছেন। সর্বশেষ তার পান বরজে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া পাঁচ কাঠা জমির বেগুন গাছ কেটে ফেলা, দশ কাঠা জমির পটল গাছ নষ্ট করা এবং কপির চারা উপড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে। পেঁয়াজ ও আলুসহ অন্যান্য ফসল চাষ করলেই তা নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
শুধু কৃষিজমিই নয়, ইনতাজ আলীর বসতবাড়িতেও একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইনতাজ আলী বলেন, “অল্প জমিতে ফসল ফলিয়ে কোনোমতে সংসার চালাই। একের পর এক ফসল নষ্ট করে দিলে আমরা বাঁচব কীভাবে? সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।”
গ্রামবাসীর সহযোগিতায় অভিযুক্তকে একপর্যায়ে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। তবে এরপরও আতঙ্ক কাটেনি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
মোহনপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মো. ইয়ামিন আলী বলেন, “অভিযুক্তকে আটক করে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, “একজন অসহায় কৃষকের ফসল নষ্ট করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও মানবিকতার পরিপন্থী। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইনতাজ আলী শান্ত স্বভাবের মানুষ এবং দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের ওপর নির্ভর করে পরিবার চালাচ্ছেন। তার মতো একজন দরিদ্র কৃষকের ওপর এ ধরনের হামলা অমানবিক বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “এভাবে ফসল নষ্ট করে একজন মানুষকে নিঃস্ব করে দেওয়া অন্যায়। আমরা দ্রুত বিচার চাই।”
আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, “পরিবারটি এখন সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকে। শিশুরাও ভয়ে ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা এ ধরনের হয়রানি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার কৃষকদের মধ্যেই ভীতির সঞ্চার করছে। দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


