
আব্দুল্লাহ আল শামস,দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :
দীর্ঘদিনের কষ্ট আর সংগ্রামের পর অবশেষে নতুন একটি ব্যাটারি চালিত ট্রাইসাইকেল পেয়ে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছেন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ব্রহ্মপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী সবজি বিক্রেতা খোদাবক্স (৬৫)। সমাজের প্রতি কোনো অভিযোগ না রেখে আত্মমর্যাদা বজায় রেখে জীবন সংগ্রামে লড়াই করা এই মানুষটির পাশে দাঁড়িয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। শনিবার (৩ জানুয়ারি) জাতীয় সমাজসেবা দিবস উপলক্ষে দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে খোদাবক্সের হাতে ট্রাইসাইকেলটি তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশতুরা আমিনা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আ. ন. ম. রাকিবুল ইউসুফসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জানা গেছে, খোদাবক্সকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন ও সমাজসেবা কর্মকর্তা আ. ন. ম. রাকিবুল ইউসুফের নজরে আসে। পরে তাঁর মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের অংশ হিসেবে একটি ব্যাটারি চালিত ট্রাইসাইকেল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ট্রাইসাইকেল পেয়ে আবেগাপ্লুত খোদাবক্স বলেন, “আমি কখনো কারও কাছে টাকা চাইনি। শুধু চেয়েছিলাম চলাফেরার জন্য একটা ভালো গাড়ি। বয়সের ভারে প্যাডেল চালিয়ে চলাচল করা খুব কষ্টের ছিল। সবাই আশ্বাস দিত, কিন্তু সহযোগিতা করত না। আজ আল্লাহ আমার ডাকে সাড়া দিয়েছেন। এই গাড়ি দিয়ে এখন স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারব, সবজিও সঙ্গে নিয়ে বিক্রি করতে পারব।”
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আ. ন. ম. রাকিবুল ইউসুফ বলেন, “খোদাবক্স একজন প্রতিবন্ধী হলেও কারও কাছে হাত না বাড়িয়ে সবজি বিক্রি করে জীবন চালান—এটাই আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর চাহিদা অনুযায়ী ট্রাইসাইকেল দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি যাতায়াতের পাশাপাশি সবজি বহন করে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশতুরা আমিনা বলেন, “সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে দেওয়া এই ট্রাইসাইকেলটি খোদাবক্সের জীবনযাত্রা সহজ করবে। এমন মানবিক উদ্যোগের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রশংসার দাবিদার।”
উল্লেখ্য, খোদাবক্স একসময় ছিলেন সুস্থ ও কর্মঠ মানুষ। কিন্তু এক প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই পা হারান তিনি। এরপরও ভেঙে না পড়ে ভাঙা হাতগাড়িতে ভর করে প্রতিদিন গ্রাম থেকে সবজি সংগ্রহ করে কালীগঞ্জ ও দাওকান্দি হাটসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে সংসার চালিয়ে আসছেন।
স্থানীয় সমাজকর্মী জয়নাল আবেদিন বলেন,“খোদাবক্স আমাদের এলাকার অনুপ্রেরণা। তিনি প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো প্রতিবন্ধকতাই জীবনের পথ রুদ্ধ করতে পারে না।”
দুই পা হারিয়েও জীবনযুদ্ধে এমন সাহসী লড়াই আজ শুধু ব্রহ্মপুর নয়, সমগ্র দুর্গাপুরবাসীর জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।


