
মৌসুমী দাস, চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শুধু সোনালি আভা। তপ্ত রোদে ঝিলিক দিচ্ছে পেকে যাওয়া গমের শীষ। মেঠো পথ ধরে হাঁটলে কানে আসে গম মাড়াইয়ের মেশিনের শব্দ আর কৃষকের আনন্দঘন কোলাহল। চারঘাট উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এখন পুরোদমে শুরু হয়েছে গম কাটা ও মাড়াইয়ের উৎসব।
সরেজমিনে চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর, শলুয়া, ভায়ালক্ষ্মীপুর এবং সরদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে গম কাটতে ব্যস্ত। কোথাও দলবেঁধে শ্রমিকরা কাস্তে দিয়ে গম কাটছেন, আবার কোথাও আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় “কম্বাইন হারভেস্টার” মেশিন দিয়ে নিমেষেই কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। কৃষকরা জানান, এ বছর কুয়াশার প্রকোপ কম থাকায় এবং সময়মতো হালকা বৃষ্টি হওয়ায় গমের দানা বেশ পুষ্ট ও উজ্জ্বল হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে চারঘাট উপজেলায় গমের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এবার উচ্চ ফলনশীল ও ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী জাত যেমন: বারি গম-৩০, ৩১, ৩২ এবং ৩৩ (জিংক সমৃদ্ধ) চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছিল। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, প্রতি বিঘা জমিতে এবার ১৫ থেকে ১৮ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে, যা গত কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলার সরদহ ইউনিয়নের খোর্দ্দগোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন, গম কাটায় যান্ত্রিকীকরণের ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শ্রমিক সংকটের সমাধান হিসেবে কৃষকরা হারভেস্টার মেশিনের দিকে ঝুঁকছেন। এতে করে খরচ যেমন কমছে, তেমনি নষ্ট হওয়ার ভয় ছাড়াই দ্রুত ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে।
উপজেলার শলুয়া এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে এক বিঘা জমির গম কাটতে অনেক সময় আর লেবার লাগতো। এখন মেশিনে কয়েক মিনিটেই সব হয়ে যাচ্ছে। ফলনও এবার মাশাল্লাহ খুব ভালো হয়েছে।
চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, আমরা কৃষকদের শুরু থেকেই আধুনিক জাত চাষে ও সঠিক সার-সেচ ব্যবস্থাপনায় পরামর্শ দিয়ে আসছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ব্লাস্ট রোগের কোনো প্রাদুর্ভাব না ঘটায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে তদারকি করছি যাতে কৃষকরা নির্বিঘ্নে তাদের ফসল ঘরে তুলতে পারেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে উপজেলার প্রায় শতভাগ গম কাটা সম্পন্ন হবে বলে বলে তিনি জানান।


