
মৌসুমী দাস, স্টাফ রিপোর্টারঃ
রাজশাহীর চারঘাটে ৩ ফসলি জমিতে অপরিকল্পিত ভাবে একের পর এক পুকুর খনন, অবৈধ ভাবে খাল দখল ও কালভার্টের মুখবন্ধের কারণে ফসলি জমি গুলো আজ পানির নিচে ডুবে আছে। অনেক এলাকার বসত বাড়িতেও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। কৃষকেরা নালা কেটে বিলের পানি সরানোর চেষ্টা করছেন। তা খুব একটা কাজে আসছেনা ফলে আমন চাষে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন উপজেলার কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানা গেছে, চরম বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারনে উপজেলার প্রায় ৩৮০ হেক্টর জমিতে আমনচাষ হয়নি। আমন চাষের জমিতে এখনও জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত রয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরশন করা খুবই কঠিন।
কৃষকের অভিযোগ অপরিকল্পিত পুকুর খননের কারনে ও ধারাবাহিকভাবে বৃষ্টির কারণে জমিতে জমে থাকা পানি সরে যাওয়ার তেমন কোনো লক্ষন নেই। অপরিকল্পিত পুকুরখনন ও খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় পাঁচ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি বছর এই পরিমাণ জমিতেই আমন চাষ হয়। আমন চাষের সঙ্গে প্রায় ৩৮ হাজার কৃষক জড়িত রয়েছেন।
মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় পুকুরের সংখ্যা ৩ হাজার ৪০২ টি। ৬ বছর আগে এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৭৬২ টি। ১ যুগ আগে ছিল ১ হাজার ৯৩০ টি পুকুর। এসব পুকুরের অধিকাংশই অবৈধভাবে খনন হয়েছে ৩ ফসলি জমিতে।
উপজেলার পাইটখালী এলাকার কৃষক আবু সাঈদ হিরু বলেন, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারে প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের অবৈধভাবে পুকুরখননের কাছে জিম্মি ছিলো এলাকার কৃষকরা। জমির মালিকদের কাছে থেকে লিজ নিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগার ওপর দিয়ে একের পর এক অবৈধ পুকুরখনন করা হলেও কৃষকের কথা চিন্তা করেনি কেউ। ফলে আজ ৩ ফসলি জমিতে জমে থাকা পানি বের হতে পারছে না। ফলে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন হাসান বলেন, ৬৮০ হেক্টর জমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। প্রায় ৩৮০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়নি। চরম বৃষ্টি ও অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের ফলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও নেই তিনি জানান


