
ভারতের দেয়া ১৯৬ রানের পর্বতসম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ দল কেবল শেফালির ব্যক্তিগত রানের সমানও করতে পারেনি। ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৮১ রানেই গুটিয়ে যায় নিগার সুলতানা জ্যোতিদের ইনিংস। এশিয়া কাপের সেমিফাইনালের সেই বিষাদময় স্মৃতিরই যেন পুনরাবৃত্তি ঘটল এবারও। দিনের প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় শ্রীলঙ্কা।
ফলে এশিয়া কাপের মতো এবারও স্বর্ণের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। সেমিফাইনালে হারলেও বাংলাদেশের পদক জয়ের স্বপ্ন অবশ্য এখনও বেঁচে আছে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্রোঞ্জ পদক অর্জনের লক্ষ্যে মাঠে নামবে জোত্যিরা। রবিবার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে মারকুটে মেজাজে শুরু করে ভারত।
পাওয়ার প্লের ৬ ওভারেই স্কোরবোর্ডে তারা তুলে ফেলে ৭২ রান। অবশেষে পাওয়ার প্লের শেষ বলে স্মৃতি মান্ধানাকে (৩৭) সাজঘরে ফেরান নাহিদা আক্তার। এরপর গুনালান কামালিনিকে (৩) দ্রুত বিদায় করেন সানজিদা আক্তার মেঘলা। দলীয় ৮৫ রানে ২ উইকেট হারানোর পর শুরু হয় তাণ্ডবী ‘শেফালি শো’। অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌরকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৯৪ রানের বিধ্বংসী এক জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন এই তুখোড় ওপেনার।
হারমানপ্রীত ৪০ রানে রাবেয়া খানের শিকার হন এবং পরের ওভারে রিচা ঘোষকে (২) বিদায় করেন মারুফা আক্তার। তবে শেফালি ছিলেন অনন্য। শেষ ওভারে সেঞ্চুরির জন্য ২ রান দরকার ছিল তার। স্বর্ণা আক্তারের ওভারের শেষ বলে নিজের নবম ছক্কাটি হাঁকিয়ে মাত্র ৪৯ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি তুলে নেন শেফালি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রানের বিশাল পুঁজি পায় ভারত।

ষষ্ঠ ব্যাটার শারমিন আক্তার ১০ এবং ওপেনার দিলারা সর্বোচ্চ ২৭ রান করে বিদায় নিলে ৪৯ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে দলটি। বাকি ৫ উইকেট পড়ে মাত্র ২৬ রানের ব্যবধানে। শেষ দিকে সুলতানা খাতুনের অপরাজিত ১২ রানের সুবাদেই বাংলাদেশ কোনোমতে ৮০ পেরোয়।
ভারতের পক্ষে বল হাতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো নান্দানি শর্মা ও দীপ্তি শর্মা দুজনই পান ৩টি করে উইকেট। জোড়া উইকেট পান শ্রী চরণী।


