
মৎস্য উৎপাদন বাড়িয়ে প্রান্তিক মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণের আহ্বান
রাজশাহীর মোহনপুরে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের আওতায় উন্মুক্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বিলকুমারী বিলে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলার ছয়টি জলাশয়ে ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার আকারের রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের মোট ২৮৬ দশমিক ৭১ কেজি পোনা বিনামূল্যে বিতরণ ও অবমুক্ত করা হয়। এর আগে উপজেলা পরিষদের পুকুরেও বিভিন্ন জাতের পোনামাছ অবমুক্ত করেন সংসদ সদস্য।
উদ্বোধন শেষে বিলের জলাশয়ে পোনা অবমুক্ত করেন অতিথিরা। পরে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুল হক মিলন বলেন, ‘এই ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে মৎস্য চাষি, মৎস্য প্রতিপালনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা এবং প্রান্তিক পর্যায়ের জেলেদের উৎসাহিত করা সম্ভব হবে। এ কার্যক্রম দেখে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাই মাছ চাষ ও পোনামাছ অবমুক্তকরণে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হবেন।’
তিনি বলেন, ‘এই মাছগুলো বড় হয়ে দেশের বিশাল চাহিদা পূরণ করবে। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে এটি বড় ভূমিকা রাখবে।’ দেশব্যাপী উৎপাদনমুখী এ ধরনের কার্যক্রমে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামীমুল ইসলাম মুন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু রহমান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজিম উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল কাদের, কেশরহাট পৌর শাখা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক খুশবুর রহমান এবং জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা রুমেনা হোসেনসহ মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও মৎস্য চাষিরা উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা শুনলেন এমপি
কর্মসূচি শেষে ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের শ্যামপুরহাটে যাত্রাবিরতি করেন সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন। সেখানে বিএনপি কার্যালয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
পরে পবা বিমানবন্দরের পাশে ‘রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতি’ কার্যালয়ে যান তিনি। সেখানে ব্যবসায়ীরা আলু ব্যবসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বিষয়টি সমাধানে রাজশাহী জেলা প্রশাসককে ফোন করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন সংসদ সদস্য।


