
‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি ও হেলদি সিটি’ পরিচিতি ধরে রাখতে নগরবাসীকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান
শহরের ব্যস্ততা, কংক্রিটের বিস্তার আর নগরায়ণের চাপের মধ্যেও সবুজের আবরণ ধরে রেখেছে রাজশাহী। দীর্ঘ দুই থেকে তিন দশকের ধারাবাহিক উদ্যোগে গড়ে ওঠা এ সবুজ নগরীর পরিচিতি এখন শুধু দেশের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। তবে এই অর্জন ধরে রাখতে প্রয়োজন আরও সচেতনতা, দায়িত্বশীলতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ। রাজশাহী শহরের সবুজায়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন (রেডা), আরএমপি, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) ও রাজশাহীর সাংবাদিকদের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
‘এ অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়’
ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী শহরকে সবুজায়িত করার উদ্যোগ এক-দুই বছরের নয়; প্রায় দুই থেকে তিন যুগ ধরে ধারাবাহিকভাবে এ প্রচেষ্টা চলে আসছে। এর ফলে রাজশাহী আজ ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি ও হেলদি সিটি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এ অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়। নগরবাসীসহ জেলার সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ সাফল্য এসেছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের এ অর্জন ধরে রাখতে হলে নগরবাসীকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। নগরায়ণের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে নানা ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। তাই উন্নয়নের পাশাপাশি সবুজায়ন ও পরিবেশ সুরক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
নিজের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘আমার মেয়র পদে দায়িত্ব পালনকালে বিগত ১৭ বছর সারা বাংলাদেশে ১৪ বার প্রথম স্থান অর্জন করেছে এই মহানগরী।’ এর ফলে রাজশাহীর পরিচিতি দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বৃক্ষরোপণকে নিতে হবে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে
বৃক্ষের গুরুত্ব তুলে ধরে ভূমিমন্ত্রী বলেন, গাছ কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে অক্সিজেন ছাড়ার মাধ্যমে পৃথিবীর প্রাণ-প্রকৃতি টিকিয়ে রাখে। বৃক্ষ ছাড়া পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণকে প্রত্যেকের দায়িত্ব হিসেবে নিতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু কর্মসূচি আয়োজন করে গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। লাগানো গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি। নগরীর সড়ক, প্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা ও খোলা জায়গায় পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
আবাসন খাত, প্রশাসন ও নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
রাজশাহীর সবুজায়নে আবাসন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, আরএমপি এবং আরডিএর ভূমিকার প্রশংসা করেন মিজানুর রহমান মিনু। পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তুলতে এসব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, একটি স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার দায়িত্ব শুধু সরকারি সংস্থা কিংবা নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের নয়। নগরীর প্রতিটি মানুষকে এ দায়িত্বের অংশীদার হতে হবে। গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছ কাটা বন্ধ, সবুজ স্থান সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে রেডার সভাপতি তৌফিকুর রহমান লাভলুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ সুইট এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এরশাদ আলী ঈশা।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সুধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।


