
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর থেকেই রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে খুশির জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। মনোনয়ন ঘোষণার পর রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ মিষ্টি বিতরণ ও আতশবাজি এবং পটকা ফুটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।

রাজশাহীর ৬টি আসনে যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তা যেন বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের চাওয়া ও পাওয়ার ইচ্ছার প্রতিফলন। রাজশাহী মহানগর থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন জায়গায় আনন্দ মিছিলও হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে দুইটিতে এসেছে নতুন মুখ, আর চারটিতে পুরনো প্রার্থীরাই পুনরায় টিকেছেন।
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে নতুন মুখ হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন। ‘অন্যদিকে, রাজশাহী-২ (সদর) আসনে আগের মতোই মনোনয়ন পেয়েছেন মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে নতুন প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ডিএম জিয়াউর রহমান। রাজশাহী-৫ (দুর্গাপুর-পুঠিয়া) আসনে নজরুল ইসলাম এবং রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে আবু সাঈদ চাঁদ পুনরায় মনোনয়ন পেয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ের সংগঠনের মতামত, স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও তৃণমূলের মূল্যায়ন বিবেচনা করেই এবার প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। মনোনয়ন ঘোষণার পর রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ মিষ্টি বিতরণ ও আতশবাজি এবং পটকা ফুটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।
নেতাকর্মীরা জানান, ঘোষিত প্রার্থীদের পক্ষে এখন থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মাঠপর্যায়ে গণসংযোগ ও যোগাযোগ কার্যক্রমও শুরু হবে দ্রুত। নেতাকর্মীরা আরো বলেন, আমরা খুব খুশি এবারের মনোনয়ন নিয়ে। যারা পূর্বে ভোট করেছে তাদের মনোনয়ন দিয়েছে। যারা অভিজ্ঞ তাদের দেওয়া হয়েছে। এবার পুরতনদেরই বেশি সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সারাদেশের মতো রাজশাহীর ছয়টি আসনেও যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছেন। আমরা রাজশাহীর আপামর নেতাকর্মীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণায় বেশ উচ্ছ্বসিত। আমাদের এখন একটাই লক্ষ্য, দলীয় প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়ী করা।’
মনোনয়ন ঘোষিত হওয়ার পর মিনু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহর অশেষ রহমতে রাজশাহী-২ সদর আসন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন জনাব তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপি’র মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নমিনেশন ডিক্লেয়ার করেছেন।
রাজশাহীবাসীর কাছে আমি দোয়া চাচ্ছি, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য আহবান জানাচ্ছি। আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘একইসঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের নমিনেশন বা আসন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বা রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এমন পোস্ট, অতিউৎসাহী কাজ (মিছিল ,আতশবাজি, শোডাউন, রং খেলা, মিষ্টি বিতরণ ইত্যাদি) থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হলো। রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে এটি স্বাভাবিক কিন্তু প্রতিহিংসার বা আক্রোশের কোনো স্থান নেই। আমাদের একমাত্র কাজ জনগণের পাশে থেকে তাদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো, তাদেরকে বিব্রত করা বা তাদের বিরক্তির কারণ না যেন আমরা না হই। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীতেও ছয়টি আসনে যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে ধানের শীষকে বিজয়ী করার জন্য এক হয়ে কাজ করবো। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে রাজশাহীর ছয়টি আসনেই বিজয় উপহার দিয়ে আমরা প্রমাণ করবো রাজশাহীর বিএনপি নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ।
এদিকে রাজশাহী-৩ আসনে মনোনয়ন পাওয়া এ্যাড. শফিকুল হক মিলন একবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। তিনিও দীর্ঘ সময় ধরে পবা-মোহনপুরের জনগণের সঙ্গে মিশে কাজ করছেন।র


