
স্টাফ রিপোর্টার: রাকিবুল ইসলাম
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে উপজেলা জুড়ে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য বৈশাখী শুভযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলা।

সকালে মোহনপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে বের হয় আনন্দঘন বৈশাখী শুভযাত্রা। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত অংশগ্রহণকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখোশ ও ঐতিহ্যবাহী উপকরণ নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। ঢোল-বাদ্য ও লোকজ সংগীতের তালে তালে শোভাযাত্রাটি উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,
“বাংলা নববর্ষ আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক। এ উৎসবের মাধ্যমে মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ, সম্প্রীতি ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় হয়। নতুন বছর হোক উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির অঙ্গীকার।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহিমা বিনতে আখতার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়েদা সুলতানা, উপজেলা থানার ইনচার্জ অফিসার মিজানুর রহমান মিজান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সইদ আলী রেজা, এলজিইডি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সভাপতি শামিমুল ইসলাম মুন, সাধারন সম্পাদক মাহবুব অর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু রহমান সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজিম উদ্দিন, উপজেলা কৃষকদল সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাবলু, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, শ্রমিকদল সভাপতি মোজাম্মেল হক, ছাত্রদল সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. খন্দকার সাগর আহম্মেদ, কৃষি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা আরজুমান্দ, জাহানাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি জিল্লুর রহমান, মৌগাছি ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি নুর এ আলম সিদ্দিকী মুকুল, ধুরইল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, ঘাসিগ্রাম ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, কেশরহাট পৌরসভার সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
শোভাযাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরেন। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসে বৈশাখী মেলা, যেখানে গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা পণ্য ও খাবারের সমাহার ছিল।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে অংশ নেয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানোর মধ্য দিয়ে মোহনপুর উপজেলা পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।


