
স্টাফ রিপোর্টার: রাকিবুল ইসলাম
রাজশাহীর মোহনপুরে অবস্থিত মোহনপুর আলোকিত ইসলামিয়া হিফজুল কোরআন মাদ্রাসা দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে কথা হয় মাদ্রাসার পরিচালক ও রাজশাহী হুফফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মাসউদুর রহমান সিদ্দিকীর সঙ্গে।

তিনি জানান, এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিশুদেরকে কোরআনের হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের নৈতিক ও আদর্শিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা। পাশাপাশি যুগোপযোগী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া।বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। নূরানী, নাজেরা ও হিফজ বিভাগে শিক্ষার্থীদের পৃথকভাবে ভাগ করে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা হচ্ছে।পাঠদান পদ্ধতি সম্পর্কে পরিচালক বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের সহজবোধ্য পদ্ধতিতে কোরআন শিক্ষা দেই। নিয়মিত অনুশীলন, তিলাওয়াত, শুদ্ধ উচ্চারণ এবং মুখস্থ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।”
ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় নিশ্চিত করতে সাধারণ জ্ঞান, বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।শিক্ষকদের বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে অভিজ্ঞ ও যোগ্য হাফেজ ও আলেমগণ পাঠদান করেন। তাদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমও পরিচালিত হয়।আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মনোরম পরিবেশ, খাবার, থাকা এবং সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা হয়।
খরচের বিষয়ে তিনি জানান, আবাসিক ও অনাবাসিক ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যেই রাখার চেষ্টা করা হয়।শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নের জন্য নিয়মিত পরীক্ষা, মৌখিক মূল্যায়ন এবং মাসিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তাদের মতামত নেওয়া হয়।বর্তমানে মাদ্রাসা পরিচালনায় আর্থিক সংকট ও পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাবকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সহায়তা না পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “মাদ্রাসাটিকে আরও উন্নত করতে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন।”প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি জানান, সীমিত পরিসরে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানকে একটি আদর্শ দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা, যেখানে একজন শিক্ষার্থী কোরআনের হাফেজ হওয়ার পাশাপাশি যুগোপযোগী শিক্ষায়ও দক্ষ হবে।
সমাজে মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে ভুল ধারণা দূর করতে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ইতিবাচক কার্যক্রম পরিচালনার কথাও জানান তিনি।সবশেষে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “সন্তানদের সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মাদ্রাসা শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সবাইকে এই শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানাই।”


