
দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর দুর্গাপুরে সরকারি অনুমোদিত রাসায়নিক সার ডিলারের গুদামে সার মজুদ থাকার পরও কৃষকদের ‘সার নেই’ বলে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কৃষকেরা একত্রিত হয়ে গুদামের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও প্রশাসন এসে পরিস্থিতি ঠান্ডা করে এবং কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ শুরু করেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর নওপাড়া ইউনিয়নের খিদ্র কাশিপুর এলাকায় মেসার্স লাল মোহাম্মদ সরদার—বিসিআইসি ও বিএডিসি সরকার অনুমোদিত রাসায়নিক সার ডিলারের গুদামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার মোঃ লাল মোহাম্মদ সরদার (৬০)-এর গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকলেও কৃষকদের তা দেওয়া হচ্ছিল না। সার নিতে গেলে গুদামের দরজায় তালা ঝুলিয়ে ‘সার নেই’ বলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা একত্রিত হয়ে গুদামের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে গুদামের ম্যানেজার মোঃ আবু সাঈদ (৪৫) তালা খুলে দিলে প্রশাসনের সহযোগিতায় সার বিতরণ শুরু হয়।

কৃষকদের দাবি, গুদামে সার মজুদ থাকার পরও তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি গুদামের মজুদ ও বিতরণের হিসাব যাচাই করে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভীন লাবনী বলেন, “সার বিতরণ নিয়ে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলে সবকিছু ঠিক করে দিয়েছি। অনিয়মের কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।”
অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স লাল মোহাম্মদ সরদারের লাইসেন্সের স্বত্বাধিকারী লাল মোহাম্মদ সরদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সার বিক্রিতে কোনো কারসাজি করা হয় না। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে যে পরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সুষ্ঠুভাবে বিক্রি করা হয়।”
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি অনুমোদিত সার নিয়ে এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুদদারি বা কৃষকদের বঞ্চিত করার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং প্রকৃত কৃষকদের ন্যায্য মূল্যে সারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


