

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ রহিত করার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন দেশের ৩১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। গত বৃহস্পতিবার সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তাঁরা। আজ এক যৌথ বিবৃতিতে নাগরিকেরা এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার, মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। সে সময় সব রাজনৈতিক দল বিষয়গুলোকে সাধুবাদ জানিয়েছিল। সংবিধান অনুযায়ী তা জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাস হতে হবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে এসব অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিতভাবে পাস করার সুপারিশ করলেও ৪টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ এবং ১৬টি অধিকতর পর্যালোচনার সুপারিশ করে।
নাগরিকেরা বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, সাধারণ জনগণ ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পাস করার দাবি জানানো হচ্ছিল। কিন্তু বিরোধী দলসহ কয়েকজন সদস্যের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ও প্রবল আপত্তি উপেক্ষা করে ৯ এপ্রিল সংসদে মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ) বিল, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (রহিতকরণ) বিল পাস করা হয়। এটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও বারবার উচ্চারিত অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ ছাড়া তথ্য অধিকার (সংশোধন) এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের সুপারিশও দরকার ছিল না বলে তাঁরা মনে করেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বর্তমান আইনমন্ত্রী তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন, তাই এ বিষয়ে সরকারের আপত্তি বিস্ময়কর।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদে (দ্য ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রটেকশন অব অল পারসনস ফ্রম এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স–আইসিপিপিইডি) অনুস্বাক্ষর করায় গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশটি পাস করা সরকারের বাধ্যবাধকতার একটি অংশ। অন্যদিকে সাধারণ জনগণের তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে তথ্য অধিকার আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাই এসব অধ্যাদেশকে অবিলম্বে আইনে রূপান্তরের জোর দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর থাকবে বলে নাগরিকেরা আশা প্রকাশ করেন। অন্যথায় জনগণ আবারও প্রতিবাদে সোচ্চার হবে বলে তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন।


