
দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর দুর্গাপুরে অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগে প্রশাসনের অভিযানে জব্দ করা সারের পরিমাণ নিয়ে দেখা দিয়েছে গরমিল। অভিযান শেষে ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম দাবি করেছেন, তাঁর বাড়িতে থাকা ৯৯৫ বস্তা সারের মধ্যে ৬৭০ বস্তা জব্দ দেখিয়ে বাকি ৩২৫ বস্তা সার গায়েব করা হয়েছে। এমনকি ওই সার বিক্রি করে ৮ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করেন তিনি। তবে এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে উপজেলা প্রশাসন।

অভিযোগ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের হলরুমে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা প্রশাসন। এতে জব্দকৃত সারের পরিমাণ, সংরক্ষণ ও পরবর্তী কার্যক্রমের বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, সার জব্দ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সঠিক নয়। সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য যাচাই-বাছাই করে নেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ করেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কিসমত গণকৈড় ইউনিয়নের আড়ইল এলাকায় সার ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে মোট ৬৭০ বস্তা টিএসপি, ডিএপি/ডিওপি ও ইউরিয়া সার জব্দ করা হয় বলে প্রশাসনের দাবি।
তবে ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলামের দাবি, তাঁর বাড়িতে মোট ৯৯৫ বস্তা সার ছিল। প্রশাসন ৬৭০ বস্তা জব্দ দেখালেও অবশিষ্ট ৩২৫ বস্তা সার পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, ওই সার পরে বিক্রি করে ৮ লাখ টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে ব্যবসায়ীর অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছে উপজেলা প্রশাসন। জব্দ করা সার গায়েব হওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জব্দকৃত সার কোথায়, কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে এর বিষয়ে কী কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে—সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।
এদিকে সাইদুল ইসলামের বৈধ সার ব্যবসার লাইসেন্স না থাকার বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে। ফলে অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগের পাশাপাশি জব্দকৃত সারের প্রকৃত পরিমাণ নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
অভিযোগের বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায় দৈনিক যুগান্তরে ‘দুর্গাপুরে অভিযান নিয়ে প্রশ্ন, সার গায়েব ৩২৫ বস্তা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর। বিষয়টি তদন্তে গত ১৪ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বেলায়েত হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সরেজমিনে অভিযোগ যাচাই করে প্রতিবেদন দেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেই জব্দকৃত সারের প্রকৃত পরিমাণ, ব্যবসায়ীর দাবি করা ৩২৫ বস্তা সারের অবস্থান এবং গায়েবের অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনীসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


