
- স্টাফ রিপোর্টার
- রাকিবুল ইসলাম
- ।। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাসীদের’ বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুততম বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহনপুর উপজেলা শাখা আজ (২৮ অক্টোবর, ২০২৫) এক বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সভা আয়োজন করে। রাজশাহীর মোহনপুরে এই কর্মসূচি বিকাল ৪.৩০ টার দিকে শুরু হয়ে বিকেল ৫.৩০টায় শেষ হয়, যাতে শতাধিক জামায়াতপন্থী নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন। এই ঘটনা ‘ট্র্যাজেডি দিবস’ হিসেবে স্মরণীয় করে তোলা হয়েছে, যা শেখ হাসিনা অবৈধ সরকারের ‘অন্যায় শাসনের’ প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত। সভায় বক্তারা হাসিনা সরকারের অর্থনৈতিক লুটপাট, বিশেষ করে ৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ তুলে ধরেন এবং জনগণকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান।
সভার সভাপত্বি করেন, উপজেলা আমীর ও আত্রাই অগ্রণী ডিগ্রি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল জি এম আ. আওয়াল। প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী জেলা নায়েবে আমীর ও কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মাওলানা আ. খালেক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শূরা সদস্য ও কেশরহাট পৌরসভা মেয়র পদের প্রার্থী এফএম ইসমাইল আলম আল হাছানী। এছাড়া উপজেলা নায়েবে আমীর আবুল কালাম আজাদ, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। ও নায়েবে আমীর মাওলানা হাসান আলীসহ অন্যান্য নেতারা সভায় অংশ নেন। মিছিলটি মোহনপুর উপজেলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে সরকারি কলেজ গেট ও মোহনপুর বাজার, উপজেলা পরিষদ ময়দানে শেষ হয়।যেখানে স্লোগান দিয়ে ‘‘অক্টোবরের শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে না’ ধ্বনিত হয়।
প্রধান অতিথি মাওলানা আ. খালেক সভায় বলেন, ২৮ অক্টোবরের চিত্র তোলা ধরেন—হাসিনার শাসনকালের অপরাধীদের অতি দ্রুত বিচার করতে হবে। ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা যে বর্বরতা চালিয়েছে, তা যেকোনো মানবিকতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে; শুধু ২৮ অক্টোবরে ৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে জনগণের। এটি ‘ট্র্যাজেডি দিবস’ হিসেবে চিহ্নিত করে আমরা প্রতি বছর এই স্মৃতি জাগিয়ে রাখব। জামায়াতে ইসলামী সর্বদা জনকল্যাণের পক্ষে লড়াই করেছে, এবং এখন সময় নির্বাচনী যুদ্ধে জনগণকে একত্রিত করার।” তাঁর বক্তব্যে উপস্থিতরা উচ্চস্বরে সমর্থন জানান।

বিশেষ অতিথি এফএম ইসমাইল আলম আল হাছানী বলেন, “ জামায়াতের জনকল্যাণমূলক কাজের প্রতিশ্রুতি। স্থানীয় উন্নয়ন ছাড়া রাজনীতির কোনো অর্থ নেই। ২৮ অক্টোবরের ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই চলতেই থাকবে।” উপজেলা নায়েবে আমীর আবুল কালাম আজাদ ও মাওলানা হাসান আলী তাঁদের বক্তব্যে স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতের সামাজিক কাজের উদাহরণ তুলে ধরেন এবং হাসিনা সরকারের ‘লুটের’ বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেন।
সভাপতি জি এম আ. আওয়াল সভা শেষে বলেন, “জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির আমরা অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেছি। সেই ত্যাগের ফলস্বরূপ আজ আমরা বর্তমান ভূমিকায় দাঁড়িয়ে আছি। সমসাময়িক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জামায়াতের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো—যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্য দূরীকরণ—জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ২৮ অক্টোবরের চিত্র তোলা ধরে, এটি ছিল স্বৈরশাসনের উদাহরণ, যা আমাদের আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। জামায়াতের দরজা সবার জন্য খোলা; আসুন, একসঙ্গে দেশকে সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত করি।”
এই কর্মসূচির মাধ্যমে জামায়াত নেতারা জনগণকে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে উদ্বুদ্ধ করেন এবং অতীতের অত্যাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দেন।


