
ইউরোপে দ্রুত বদলে যাওয়া নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জার্মানি বড় ধরনের সামরিক সংস্কারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। দীর্ঘ আলোচনা ও রাজনৈতিক মতবিরোধের পর সিডিইউ–এসপিডি নেতৃত্বাধীন জোট ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে বাধ্যতামূলক সামরিক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। সশস্ত্র বাহিনীর ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গৃহীত এই সিদ্ধান্তকে জার্মানির প্রতিরক্ষা কাঠামো পুনর্গঠনের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, ১৮ বছর পূর্ণ করা সব পুরুষ নাগরিকের জন্য সামরিক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হবে, আর নারীরা ইচ্ছা করলে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য, স্বাস্থ্য–সংক্রান্ত প্রশ্ন, শারীরিক সক্ষমতা এবং মৌলিক যোগ্যতার তথ্য জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে। প্রয়োজনে সরকার নিবন্ধিত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সামরিক যোগ্যতা পুনরায় যাচাই করতে পারবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিবন্ধন মানে সেনাবাহিনীতে যোগদান নয়; বরং একটি জাতীয় সামরিক রেজিস্ট্রি তৈরি করা হবে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেনা সংগ্রহে কাজে লাগবে।
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ার জেরে জার্মানি ন্যাটোর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে চায়। এজন্য সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিক অস্ত্রভান্ডার উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে নতুন কাঠামোয় সাজানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে দেশটি।
সরকার বলছে, নতুন নিবন্ধন নীতি ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করবে।


