
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মনোবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, যৌতুক দাবি ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলার ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তারা বিচারপ্রাপ্তি নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাজশাহী মহানগরের একটি স্থানীয় পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর অভিভাবক মো. আব্দুল হাকিম এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, রাবির মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. এনামুল হক দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রী নূরজাহান সুলতানা রেনির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ১৪০ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং এক কোটি টাকা যৌতুকের দাবিতে একাধিকবার হত্যাচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, গত ৪ জুলাই রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক সাতজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নগরীর কাজলা অক্ট্রয় মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে জোরপূর্বক তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার প্রতিবাদ করেন এবং ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় ১৯ জুলাই মতিহার থানায় দণ্ডবিধির ৩৬৪/৩৪ ধারায় মামলা (নং-১৪) দায়ের করা হলেও এখনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়নি। তারা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রিপন কুমার সরকারের বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ এনে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. এনামুল হক বলেন, “মামলা হয়েছে, থানা ও আদালত বিষয়টি দেখবে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।” এর বেশি মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রিপন কুমার সরকার বলেন, “মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা করা হবে।”
এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরজুন বলেন, তিনি সম্প্রতি থানায় যোগদান করেছেন। বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


