
স্টাফ রিপোর্টার,রাকিবুল ইসলাম

রাজশাহী জেলার পশ্চিমাঞ্চলে শিক্ষার প্রতি কিশোর-কিশোরীদের অদম্য উৎসাহের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হলো কিশোরকন্ঠ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘কিশোরকণ্ঠ মেধা বৃত্তিপরীক্ষা ২০২৫’। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণির স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরীক্ষায় প্রায় ৩,৫০০ ছাত্র-ছাত্রী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষায় সফলদের মধ্যে ল্যাপটপসহ এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার বৃত্তি প্রদান করা হবে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে নতুন স্বপ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
এই পরীক্ষা মোহনপুর, তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার ছয়টি কেন্দ্রে সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রগুলো হলো: গোদাগাড়ী সরকারি স্কুল এন্ড কলেজ, শাহ সুলতান (রহ.) কামিল মাদ্রাসা, কাকনহাট উচ্চ বিদ্যালয়, মুণ্ডমালা কামিল মাদ্রাসা, সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজ এবং মোহনপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১১টা পর্যন্ত চলা এই পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা বহুবিকল্পী প্রশ্নের মাধ্যমে তাদের জ্ঞানের পরীক্ষা দিয়েছে। আয়োজকদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে কোনো ব্যাঘাত ছাড়াই কাজ চলেছে। 
ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. রেজুয়ানুল ইসলাম এবং ভাইস চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মমিনের নেতৃত্বে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে গ্রামীণ ও শহুরে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের জন্য।
পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে স্কলারস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের বৃত্তি প্রকল্পের চেয়ারম্যান শামীম উদ্দিন শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, “এই বৃত্তি কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং মেধাবীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সেতু। আমরা চাই, গ্রামের প্রতিটি শিক্ষার্থী তার সম্ভাবনা উন্মোচন করুক।” চেয়ারম্যান রেজুয়ানুল ইসলামের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, “কিশোরকন্ঠ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ শিক্ষার মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের একটি অংশ ও ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে মেধা বিকাশে এই রকম অংশগ্রহন পূর্ণ বেশি বেশি হওয়ার দরকার। ৩৫০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ আমাদের সাফল্যের স্বীকৃতি। আমরা প্রতি বছর এমন উদ্যোগ বাড়াবো যাতে কোনো মেধাবী ছেলেমেয়ে পিছিয়ে না পড়ে।”
অনেক অভিভাবকও কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে সন্তানদের উপদেশ দিয়েছেন। মোহনপুরের এক অভিভাবক রহিমা বেগম বলেন, “আমার ছেলে মেয়েরা এই ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা বিকাশিত হবে এবং এই বৃত্তির মাধ্যমে কিছুটা ফুটে উঠবে।
ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ আমাদের মতো গরিব পরিবারের জন্য সহায়ক হবে।” শিক্ষার্থীদের মধ্যে গোদাগাড়ীর রিয়া আক্তার (নবম শ্রেণি) বলেন, “পরীক্ষাটা চ্যালেঞ্জিং ছিল, কিন্তু ল্যাপটপ ও টাকার বৃত্তির স্বপ্ন আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি সফল হয়ে পরিবারের গর্ব বাড়াবো।” অন্য এক শিক্ষার্থী সোহাগ (দশম শ্রেনী) বলেন “এই পরীক্ষা আমাদের মেধা যাচাইয়ের সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা সকলে একসঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে অনেক কিছু শিখেছি।”
কিশোরকন্ঠ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ রাজশাহী জেলা পশ্চিমের শিক্ষা জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে, যা গ্রামীণ শিক্ষার ভবিষ্যৎ গড়ার প্রতীক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


