
স্টাফ রিপোর্টার: রাকিবুল ইসলাম
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাসে ধারাবাহিক সহিংসতায় অন্তত ৪টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। অধিকাংশ ঘটনার আসামিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

সর্বশেষ, জাহানাবাদ ইউনিয়নের করিসা দুর্গাপুর গ্রামে সেচসংক্রান্ত বিরোধে কামরুল হাসান মিঠু (৩৫) নামে এক কৃষছবিক নিহত হন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী সাদ্দাম হোসেন (২৮) এখনও পলাতক রয়েছে, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজ জমিতে সেচ দেওয়ার সময় কামরুলের পাইপ ফেটে পানি পাশের জমিতে চলে যায়। এতে প্রতিবেশী সাদ্দামের পেঁয়াজ ক্ষেতে পানি ঢুকে পড়লে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, সাদ্দাম ধারালো কোদাল দিয়ে কামরুলের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। বাধা দিতে গেলে তার স্ত্রী আদরী খাতুনও আহত হন।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় কামরুলকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী আব্দুর রশিদ (৬৪) বলেন, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সাদ্দাম হঠাৎ কোদাল দিয়ে কামরুলের মাথায় আঘাত করে। রক্তে ভেসে যাচ্ছিল, আমরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই।
নিহতের স্ত্রী আদরী খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সামান্য বিষয় নিয়ে আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।” তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পরও আসামি পলাতক থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলায় সংঘটিত অন্যান্য হত্যাকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। মৌগাছী ইউনিয়নের বেলগাছি এলাকায় ভ্যানচালক আলমগীর হোসেনকে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হলেও নিহতের পরিবার এখনও আতঙ্কে রয়েছে। একই ইউনিয়নের বেড়াবাড়ি দিঘির মোড় এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে সাব্বির নামে এক যুবক ছুরিকাঘাতে নিহত হন। ওই ঘটনার অভিযুক্তও এখনও পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।
একাধিক নিহতের স্বজনরা জানান, মামলা দায়েরের পরও আসামিদের গ্রেফতার না হওয়ায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনার পরপরই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, তুচ্ছ বিরোধ দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেওয়ার প্রবণতা সামাজিক অবক্ষয়ের ইঙ্গিত বহন করছে। তারা মনে করছেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, গ্রামীণ বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় হতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়িয়ে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
মোহনপুর উপজেলায় ধারাবাহিক এসব হত্যাকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


