
সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার অঙ্গীকার—ডেঙ্গু প্রতিরোধে গড়ি নিরাপদ পরিবেশ।
রাকিবুল ইসলাম, মোহনপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজশাহীর মোহনপুরে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় মোহনপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার। কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনও ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। এ রোগের বিস্তার ঠেকাতে সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও যাতে পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি এবং ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করতে হবে। সম্মিলিতভাবে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আখতার হোসেন বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসন সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।”
এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কেশরহাট পৌরসভার প্রশাসক জোবায়দা সুলতানা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা হাসান শামীম ইমাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সইদ আলী রেজা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল মতিন, এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার রিপন আলী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা খন্দকার সাগর আহমেদ, আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান,উপজেলা কার্যালয়ের সহকারী কর্মকর্তা আ.আজিজ আহমেদ, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এস এম মালিকুজ্জামান, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামাল আহমেদ সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, “সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব।” এ জন্য নিয়মিত মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতা কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের নিয়মিত দায়িত্ব। নিজ নিজ বাড়ি, কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।


