
।

রাজশাহীর মোহনপুরে ঈদুল ফিতরের নামাজের ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষে নিহত জামায়াত কর্মী আলাউদ্দিন হত্যার ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা। তাদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করার পরিবর্তে উল্টো জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
মোহনপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের দাবি, কেশরহাট পৌর বিএনপির কয়েকজন নেতা অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ এনে জামায়াতের উপজেলা আমীরসহ ৩৯ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলার মাধ্যমে আলাউদ্দিন হত্যার ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
রাজশাহী জেলা জামায়াতে ইসলামীর শূরা সদস্য এফএম ইসমাইল আলম আল হাছানী বলেন, “আলাউদ্দিন হত্যার ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। কিন্তু সেটি না করে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।”
মোহনপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর জিএএম আব্দুল আওয়াল বলেন, একটি মহল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই মামলা করেছে। তিনি অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে মামলার বাদী হিসেবে নাম থাকা মহেদ আলী দাবি করেছেন, তিনি স্বেচ্ছায় মামলা করেননি। তাকে মোটরসাইকেলে করে থানায় নিয়ে গিয়ে একটি কাগজে সই করানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি মামলা করিনি। আমাকে কেশরহাট পৌর বিএনপির সেক্রেটারি মশিউর রহমান থানায় নিয়ে গিয়ে একটি কাগজে সই করিয়ে নেন। আমি এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করছি।”
নিহত আলাউদ্দিনের বড় ছেলে ইমরান নজীর বলেন, তারা তার বাবার হত্যার সঠিক বিচার চান। প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজে ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে মোহনপুর উপজেলার সাঁকোয়া এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জামায়াতের কর্মী আলাউদ্দিন নিহত হন।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


