
পূর্ব উপকূলে সমুদ্র লক্ষ্য করে অন্তত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ জোড়া ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের এই তথ্য জানানো হয়েছে।নিজেদের পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে পুনরায় ঘোষণা দেওয়ার এবং পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে জাতিসংঘের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার মাত্র কয়েক দিন পরই এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলেছে, রোববার স্থানীয় সময় দুপুর তিনটার দিকে প্রথম দফায় উত্তর কোরিয়ার ওনসান শহরের কাছ থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এটি প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে জাপান সাগর নামে পরিচিত পূর্ব সাগরে পড়ে।

এর পরপরই সন্ধ্যা ৬টার দিকে দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিউলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এই উৎক্ষেপণের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেছে, উত্তর কোরিয়ার নিক্ষেপ করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই ব্যালিস্টিক ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বলেছে, প্রথম উৎক্ষেপণের পরপরই তাদের জাতীয় নিরাপত্তা কার্যালয় জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনা করেছে।
একই সঙ্গে পিয়ংইয়ংকে অবিলম্বে সব ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সিউল। রোববারের এই উৎক্ষেপণকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং গুরুতর অপরাধমূলক কাজ বলে অভিহিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
• অনড় অবস্থানে পিয়ংইয়ং
এর আগে পূর্ব সাগরের দিকে একাধিক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি অনুযায়ী, সেটি ছিল একটি যৌথ সামরিক মহড়া। এর ঠিক আট দিন পরই আবার এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হলো।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য বলেছে, ওই মহড়ায় দূরপাল্লার গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল; যা শতভাগ নির্ভুলতার সঙ্গে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাধারণ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়া অভিযোগ করে, কিছু শত্রুভাবাপন্ন শক্তি জোর করে তাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, আইএইএর এই ধরনের প্রস্তাব পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অর্জিত অবস্থানের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।
তিনি বলেন, পরমাণু শক্তি হিসেবে উত্তর কোরিয়ার এই অবস্থান সংগঠিত প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে সুনিশ্চিত এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন দিয়ে এটি স্থায়ী ও চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং বলেন, তার দেশের পরমাণু শক্তির অবস্থান চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয়। একই সঙ্গে যারা উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিষ্ক্রিয়করণের স্বপ্ন দেখছেন, তাদের বোকা বলে আখ্যা দেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত আগস্টে দাবি করেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে অন্তত ৫৭টি অত্যন্ত শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পিয়ংইয়ংয়ের কাছে থাকা পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা ৮০ থেকে ১২০টির মতো হতে পারে।


