
প্রযুক্তি শুধু ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, “তোমাদের কাজ হবে বিজ্ঞানকে প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা। প্রকৌশলী হিসেবে নিজেদের নতুন নতুন প্রযুক্তি তৈরি করতে হবে। আমরা শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হয়ে থাকব না, প্রযুক্তি তৈরি করব, প্রযুক্তি রপ্তানি করব।”

শনিবার (৯ মে) রুয়েটের অডিটরিয়ামে ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনটি অনুষদের ১৪টি বিভাগের মোট ১ হাজার ২৩৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। আগামী রোববার (১০ মে) থেকে নবীন শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হবে।
প্রযুক্তিতে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে প্রকৌশলীদের ভূমিকা জরুরি
উপাচার্য বলেন, “লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এখনই—আগামী চার বছর। প্রস্তুতি নিতে যদি ব্যর্থ হও, তবে ব্যর্থতাকেই বরণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছ।” তিনি শিক্ষার্থীদের একজন দক্ষ প্রকৌশলীর পাশাপাশি আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের এ পর্যায়ে নিয়ে আসার পেছনে তাদের অবদান সবচেয়ে বেশি। এজন্য তিনি অভিভাবকদের অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, শিক্ষাবান্ধব ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ছাত্রকল্যাণ দপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। ক্যাম্পাসে র্যাগিং ও বুলিংবিরোধী নীতিমালা বাস্তবায়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমাসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে রুয়েটে ছাত্রীদের শতভাগ এবং ছাত্রদের প্রায় ৮০ শতাংশ আবাসন নিশ্চিত করা গেছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বশির আহমেদ এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম। এছাড়া ১৪টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানরাও উপস্থিত ছিলেন।
রুয়েট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি প্রকৌশল অনুষদের ১৪টি বিভাগের বিপরীতে মোট আসন রয়েছে ১ হাজার ২৩০টি। এর মধ্যে সিএসই, ইইই, সিই ও এমই বিভাগে ১৮০টি করে আসন, এমটিই, সিএমই, আইপিই, এমএসই, ইউআরপি, ইসিই ও ইটিই বিভাগে ৬০টি করে এবং এআরসিএইচ, সিএইচই ও ইসিএম বিভাগে ৩০টি করে আসন রয়েছে। তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে মোট ১ হাজার ২৩৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।


