
আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী (বানেশ্বর) প্রতিনিধিঃ
উত্তর বঙ্গের অন্যতম সুমিষ্ট আম উৎপাদনকারী রাজশাহী পুঠিয়া এখন কলার চাষের জন্য কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। স্বল্প পরিশ্রমে যেকোনো ধরনের সার প্রয়োগ করে মানসম্মত কলা চাষ করা যাচ্ছে বলে এই কৃষি পেশায় শিক্ষিত অশিক্ষিত সবাই এখন কলা চাষে ব্যস্ত। রাজশাহী পুঠিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম ঘুরে বিভিন্ন ধরনের কলা দেখা যায় যেমন চাপা কলা, অনুপম কলা, সাগর কলা, জ্বীন কলা, আনাজী কলা ইত্যাদি।

উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের বালিয়াঘাটি গ্রামের সহকারী অধ্যাপক নুরুল হুদা জানান, এ বছরে তার নিজের সাত বিঘা রঙিন সাগর কলা ছিল এবং পাইকাররা জমি থেকে কলা নিয়ে গেছে এবং প্রায় চৌদ্দ লক্ষ টাকার কলার দাম পাওয়া তিনি কলা চাষে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলমগীর হোসেন জানান তার তিন বিঘা জমিতে রঙিন সাগর কলা চাষ করে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার মতো দাম পেয়েছেন। বিরালদহ হাতিনাজা গ্রামের ইউসুফ আলী বেকারত্ব অবস্থায় অন্যের সাত বিঘা জমি লিজ নিয়ে পাঁচ বিঘা জমিতে সাগর কলা চাষ করে তিনি এখন স্বাবলম্বী ।
বানেশ্বর হাটের পাইকারি কলা ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন বলেন, এইবার কলা আমদানি গতবছর থেকে অনেক বেশি হওয়ায় আমাদের কলা সেল বেশি হয়েছে এবং ব্যবসায় ভালো লাভ হয়েছে।
কলা চাষের প্রতি আগ্রহ থাকার কারণ হিসেবে কৃষক ইউসুফ বলেন এক বিঘা বিভিন্ন জাতের কলা চাষে খরচ হয় নিজের জমি হলে পঁয়ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা আর লিজকৃত জমি হলে আশি হাজার টাকার মধ্যেই উৎপাদন হয় এতে লভ্যাংশ থাকে প্রায় আশি হাজার টাকা থেকে এক লক্ষ দশ বিশ হাজার টাকা অন্যান্য ফসলের জন্য অতিরিক্ত লেবার খরচ হয় এবং ফসল উৎপাদনে শারীরিক পরিশ্রম বেশী হয় তাই দেখা যায় অন্যান্য ফসলের থেকে কলা চাষে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়।
পুঠিয়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী দাস বলেন, এ বছর পুঠিয়া উপজেলা প্রায় আটশত হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের কলা চাষ হয়েছে এবং উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ চাষীদের সাথে সহযোগিতায় কলা চাষ ভালো ফলন হয়েছে এবং কলার দাম ভালো থাকায় কৃষকরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, রাজশাহী অঞ্চলের পুঠিয়ায় দুইটি বড় কলার হাট রয়েছে পুঠিয়া ঝলমলিয়া এবং অন্যতম বানেশ্বর বড় হাট হিসেবে বিবেচনা করা হয়, বিশেষ করে আম ও কলার জন্য। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফলমূল পাঠানো হয় — যেমন ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ। হাটে প্রচুর পরিমাণ ফলমূল লেনদেন হয়, তাই এটি কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ।
বানেশ্বর হাট ইজারাদার জাক্কার এবং শরিফুল বলেন, বানেশ্বর এবং ঝলমলিয়া কলা হাট সপ্তাহে চারদিন বেচাকেনা হয় প্রায় পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার কাদি কলা বিভিন্ন এলাকার পায়কাররা বেচাকেনা করে।


