
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গাজীপুরের শ্রীপুরে বিশেষ মাদক বিরোধী অভিযানে ২মন ৮ কেজি গাঁজাসহ তাহমিনা (৩৫) নামে এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেফতার তাহমিনা আন্তঃজেলা মাদক কারবারি মোঃ কবির হোসেনের স্ত্রী। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কবির হোসেন পালিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের হওয়া ১০টিসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
শনিবার বিকেলে গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয় এক সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের নির্দেশনায় চলমান মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টা ৩৫ মিনিটে শ্রীপুরের বরমী বাজার এলাকায় অভিযানিক দল অবস্থান করছিল। এ সময় বরমী মধ্যপাড়া এলাকায় বিপুল পরিমাণ মাদক মজুদের গোপন সংবাদ পায় পুলিশ।

পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে বরমী মধ্যপাড়ায় কাজল নামে এক ব্যক্তির বাড়ির ভাড়াটিয়া কবির হোসেনের বসতঘরে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে ওই ঘর থেকে বিভিন্ন আকারের ৩৯টি প্যাকেটে রাখা ৮৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় কবির হোসেনের স্ত্রী তাহমিনাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কবির হোসেন কৌশলে পালিয়ে যায়।
পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা গাঁজার বাজারমূল্য প্রতি কেজি ১৭ হাজার ৫০০ টাকা হিসেবে আনুমানিক ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
পুলিশ জানায়, পলাতক কবির হোসেন একজন আন্তঃজেলা মাদক কারবারি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। সে তার স্ত্রীসহ অন্যান্য মাদক বিক্রেতার সহযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকের বড় চালান সংগ্রহ করে এবং পরে স্থানীয় খুচরা মাদক ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সেবনকারীদের কাছে বিক্রি করত বলে পুলিশের দাবি। কবির হোসেনের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার ও মাদক উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীপুর থানার এসআই (নিঃ) আব্দুল কুদ্দুসের এজাহারের ভিত্তিতে তাহমিনা ও পলাতক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটি নং-৫১, তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এতে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) এর ১৯(গ)/৪১ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেফতার তাহমিনাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের সিডিএমএস রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা যায়, কবির হোসেনের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় ২০১৪, ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮ ও ২০২২ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীপুর থানার এফআইআর নং-৭০/৬৩১, তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০১৭, এফআইআর নং-৫২, তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬, এফআইআর নং-০৯, এফআইআর নং-৫৩, তারিখ ২৩ জুলাই ২০১৮, এফআইআর নং-৮৬/৩৭৫, তারিখ ৩১ মে ২০১৮, এফআইআর নং-৬২, তারিখ ২৬ জুলাই ২০১৪, এফআইআর নং-১০/৭৪৪, তারিখ ৬ নভেম্বর ২০১৮ এবং এফআইআর নং-৩৬/৮৯, তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ রয়েছে।
এছাড়া ঢাকার রমনা মডেল থানায় ১৩ জানুয়ারি ২০২১ এবং ময়মনসিংহের ভালুকা মডেল থানায় ১৫ জানুয়ারি ২০২০ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। শ্রীপুর থানায় ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে পেনাল কোডের বিভিন্ন ধারায় আরও একটি মামলা রয়েছে।
গাজীপুর জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সের পাশাপাশি জিহাদ ঘোষণা করেছি। কোনো মাদক কারবারিকে ছাড় দেয়া হবে না, সে যেই হোক না কেন। মাদক কারবারিদের পাশাপাশি মাদকসেবী ও মাদক বহনকারীদেরও নিয়মিত গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।’
পুলিশ সুপার বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মাদকের চালান ও সরবরাহের উৎস বন্ধে পুলিশ কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিএসবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিবি মোঃ আমিনুল ইসলাম, শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহিনূর আলমসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


