
স্টাফ রিপোর্টার: রাকিবুল ইসলাম
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, বিদ্যমান সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন কেশরহাট পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র জনাব আলাউদ্দিন আলো। তিনি বলেন, একটি পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক পৌরসভা গড়ে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য।

বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, কেশরহাট পৌরসভার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অপরিকল্পিত অবকাঠামো, জলাবদ্ধতা এবং নাগরিক সেবার ধীরগতি। এসব সমস্যা সমাধানে রাস্তাঘাট উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
রাস্তাঘাট, পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে আলাউদ্দিন আলো জানান, টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী রাস্তা নির্মাণ, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগিতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কেশরহাট পৌর বাজারের যানজট নিরসনে তিনি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার, ট্রাফিক পুলিশ বক্স স্থাপন, নির্দিষ্ট পার্কিং জোন তৈরি এবং হকারদের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করা হবে। এতে যানজট অনেকটাই কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
যাত্রীসাধারণের সুবিধার্থে আধুনিক যাত্রী ছাউনি নির্মাণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দল-মত নির্বিশেষে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাবেক এই মেয়র বলেন, “পৌরসভা সবার। নির্বাচিত হলে সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে কাজ করবো এবং উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেবো।
দীর্ঘদিন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তার কাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলতে চান।
“ডিজিটাল পৌরসভা” গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আলাউদ্দিন আলো বলেন, নাগরিকরা অনলাইনে জন্মনিবন্ধন, কর পরিশোধ ও অভিযোগ দাখিলসহ বিভিন্ন সেবা নিতে পারবেন। এতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি দুর্নীতিও কমবে।
দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সকল কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে।
নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জন্য বিশেষ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাদের জন্য আলাদা সেবা ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান।
তরুণ সমাজকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
পৌরসভার আয় বৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে নতুন রাজস্ব খাত তৈরি, বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং কর আদায়ে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সবশেষে কেশরহাট পৌরবাসীর উদ্দেশ্যে আলাউদ্দিন আলো বলেন, “আপনাদের আস্থা ও ভালোবাসা আমার শক্তি। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—স্বচ্ছতা, উন্নয়ন ও সেবার মাধ্যমে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য কেশরহাট পৌরসভা গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ।”


