
রাজশাহী নগরীতে সড়ক সম্প্রসারণের জন্য একের পর এক কাঠবাদাম গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। প্রায় ১৬ বছর আগে লাগানো এই গাছগুলো নগরের পরিবেশ ও সৌন্দর্যের অংশ হয়ে উঠলেও উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে তা এখন বিলীন হওয়ার পথে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা।

নগরীর বর্নালীর রাজীব চত্বর থেকে কলাবাগান হয়ে ঘোষপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়কের একপাশের প্রায় ৩০টি কাঠবাদামের গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেয় রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। এরই মধ্যে ২৩টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং বাকি গাছগুলোর ডালপালা ছেঁটে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে গাছ কাটা হয়।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সরজমিন গিয়ে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
রাজশাহীতে সড়ক সম্প্রসারণে কাটা পড়ছে ১৬ বছরের ৩০টি গাছ, বাড়ছে উদ্বেগ
রাসিক সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে প্রায় ৭০টি কাঠবাদামের গাছ লাগানো হয়েছিল। দীর্ঘ ১৬ বছরে গাছগুলো বড় হয়ে ছায়া, শীতলতা ও ফল দিত। কিন্তু সম্প্রতি রাজীব চত্বর এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণের পর সড়কের প্রস্থ কমে যাওয়ায় তা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় রিয়েল বলেন, এই এলাকায় যানবাহনের তেমন চাপ নেই। অপ্রয়োজনীয়ভাবে গাছ কাটা হচ্ছে, যা ঠিক হয়নি। গাছ কাটা সহজ, কিন্তু বড় হতে সময় লাগে অনেক বছর।
গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত ছিলেন চারজন শ্রমিক। শ্রমিকদের সরদার মোহাম্মদ গাজী জানান, আটজন শ্রমিক এ কাজে যুক্ত আছেন। সিটি করপোরেশন থেকে নিলামে গাছগুলো কিনেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী সালাহউদ্দিন।
এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিমকে ফোন করা হলে তিনি স্যারের সাথে মিটিং এ আছেন বলে ফোন কেটে দেন।
জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহমুদুর রহমান বলেন, বন বিভাগের অনুমোদন নিয়ে নিয়ম অনুযায়ী গাছ বিক্রি করা হয়েছে। ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে রাস্তার একপাশ সরু হয়ে গেছে। সড়কের প্রস্থ সাড়ে তিন মিটার না হওয়ায় গাছ কেটে রাস্তা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রেনের ওপর ফুটপাত নির্মাণ করে পরে সেখানে নতুন করে গাছ লাগানো হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, এবার বর্ষার মৌসুমে নগরীর তালাইমারী হতে কাটাখালি পর্যন্ত নতুন করে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ডঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, গ্রীন সিটি রাজশাহীকে রক্ষা করতে হবে। জনদুর্ভোগ কমাতে যেমন উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে ঠিক তেমনি সবুজ নগরী রাজশাহীর পরিবেশ রক্ষায় পরিকল্পনাও থাকতে হবে।
পরিকল্পনার অভাবে এভাবে গাছ কেটে এ ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলছেন। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের সময় পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় না নিলে ভবিষ্যতে নগরের বাসযোগ্যতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।


