
‘শিক্ষকতা পেশা: মিলিত প্রচেষ্টার দীপ্তি’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ রবিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় সিনেট ভবনের সামনের চত্বর থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে একটি শোভাযাত্রা। এতে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যবৃন্দসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হল ও বিভাগসমূহের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

বেলা ১১টায় সিনেট ভবনে আলোচনা সভা, শিক্ষক সম্মাননা এবং দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর সালেহ্ হাসান নকীব, এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান।
অনুষ্ঠানে তিনজন অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসরকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তারা হলেন- ড. মু. আয্হার উদ্-দীন (অর্থনীতি বিভাগ, সাবেক উপ-উপাচার্য ও পিএসসি সদস্য), ড. এম নজরুল ইসলাম (পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ), ড. মামনুনুল কেরামত (ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, সাবেক উপ-উপাচার্য)।
উপাচার্য তাঁদের সম্মাননাসূচক উত্তরীয় ও স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করেন।
রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণেও বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পুরস্কৃত হন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ‘টেকসই সমাজ গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা’ বিষয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন মো. শাহিন বাদশা সুমন (ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ), দ্বিতীয় স্থান জারিন তাসনীম (ইতিহাস বিভাগ) এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন কাজী এস এম আবদুল্লাহ (মার্কেটিং বিভাগ)।
স্কুল পর্যায়ে (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি) ‘আমার প্রিয় শিক্ষক’ শীর্ষক বিষয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন আহনাফ তাওসীফ খান (দশম শ্রেণি, শাখা খ-১), দ্বিতীয় স্থান ছায়া নুর সাবা (ষষ্ঠ শ্রেণি, শাখা ক), এবং তৃতীয় স্থান মুসবিতুল ইমাম নীরদ (অষ্টম শ্রেণি, শাখা খ)। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে মোছা. দিশা খাতুন (শাখা: ব্যবসায় শিক্ষা, দ্বাদশ শ্রেণি) পুরস্কারপ্রাপ্ত হন।
উপাচার্য তাঁর বক্তৃতায় বলেন, শিক্ষকেরা জাতির ভবিষ্যত নির্মাণের কারিগর। তারা শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় আলোকিত করে তোলেন, যাঁরাই আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করবে। সভ্যতার শুরু থেকেই শিক্ষাদান ও শিক্ষাগ্রহণ এক অপরিহার্য আদান-প্রদান। একজন আদর্শ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানপিপাসা জাগ্রত করতে এবং জ্ঞান অন্বেষণে উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম। শিক্ষকেরা জ্বলে, শিক্ষার্থীদের মন আলোকিত করে। একজন শিক্ষকের নৈতিক ও পেশাদার দক্ষতা শিক্ষার্থীর মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শিক্ষকতা একটি মহান পেশা, এবং এ পেশার মর্যাদা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়।
উপাচার্য আরও উল্লেখ করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কৃতবিদ্য শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়কেও সম্মানিত করেছে, এবং এই ধারা আগামীতেও অক্ষুণ্ণ থাকবে।


