
রাজশাহীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুষ্ঠানে এ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানটির মূল পরিকল্পনায় ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। এতে রাজশাহীর সরকারি ও বেসরকারি কলেজ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
রাজশাহীতে বিএনপির পলিসি ডায়ালগঃ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে খোলা আলোচনা
পলিসি ডায়ালগে বিএনপির সাম্প্রতিক ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি। আলোচনায় জানানো হয়, এই কর্মসংস্থান পরিকল্পনার আওতায় আইটি ও ডিজিটাল সেক্টর সম্প্রসারণ, স্কিল ট্রেনিং ও প্রশিক্ষণভিত্তিক চাকরি সৃষ্টি, এসএমই ও কুটির শিল্প উন্নয়ন, ই-কমার্স ও রপ্তানি খাত বিস্তারের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া কৃষি ও অবকাঠামো খাত থেকেও পরোক্ষ কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন ইস্যুতেও বিএনপির ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। নদী ও খাল-বিল রক্ষায় পানি প্রবাহ নিশ্চিতকরণ, তিস্তা ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ, ২৫ কোটি গাছ রোপণ এবং সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা শিক্ষার্থীদের সামনে ব্যাখ্যা করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ আলমগীর পাভেল এবং মিডিয়া সেলের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পবা–মোহনপুর–৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিভাগের বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহিন শওকত, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফাইসাল সরকার ডিকো এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, এ ধরনের পলিসি ডায়ালগে সরাসরি অংশগ্রহণ তাদের জন্য একটি ইতিবাচক ও ভিন্ন অভিজ্ঞতা। তারা বলেন, রাজনৈতিক ইশতেহার নিয়ে খোলামেলা আলোচনা ও প্রশ্ন করার সুযোগ ভবিষ্যৎ নাগরিক হিসেবে তাদের সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অনুষ্ঠানে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যায় থেকে সরাসরি কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। এরপরও আলোচক ও শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে একটি চিন্তাশীল ও আলোচনা-ভিত্তিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে আয়োজকরা দাবি করেন।


