
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হবে না, এবং পশ্চিম তীরে নতুন ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। তার এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ভবিষ্যতকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে।
আল জাজিরার খবর অনুযায়ী, নেতানিয়াহু সম্প্রতি একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন, যা পশ্চিম তীরকে কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত করবে এবং নতুন ইহুদি বসতি নির্মাণের সুযোগ করে দেবে। জেরুসালেমের কাছে একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের অঙ্গীকার পূরণ করতে যাচ্ছি—ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হবে না। এই জায়গা আমাদের। আমরা শহরের জনসংখ্যা দ্বিগুণ করতে যাচ্ছি।’

প্রস্তাবিত ‘ইস্ট ওয়ান বা ই১’ প্রকল্পটি প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হবে, যেখানে ৩,৪০০টি নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরের একটি বড় অংশ পূর্ব জেরুসালেম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং আশপাশের ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে যুক্ত হবে। পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখে থাকে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, ১৯৬৭ সালের পর অধিকৃত পশ্চিম তীরের সব বসতিকেই অবৈধ বলে গণ্য করা হয়।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনা বলেন, পূর্ব জেরুসালেমকে রাজধানী করে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রই শান্তির মূল চাবিকাঠি। তিনি এই ইসরায়েলি পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দেন এবং অভিযোগ করেন যে নেতানিয়াহু পুরো অঞ্চলকে ‘সহ্যের চূড়ান্ত সীমায় ঠেলে দিচ্ছেন।’
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই প্রকল্পের নিন্দা জানিয়েছে। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানসহ ২১টি দেশ এই নতুন বসতি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, জার্মানি ফ্রান্সের নেতৃত্বে প্রস্তাবিত দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানকে সমর্থন করবে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়, যেখানে ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর থেকে সেনা প্রত্যাহার, নতুন বসতি নির্মাণ বন্ধ এবং দখলকৃত জমি থেকে বসতি উচ্ছেদের আহ্বান জানানো হয়। ১৪৯টি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং ফিলিস্তিন বাকি দেশগুলোকেও দ্রুত এই স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) রায় দিয়েছিল যে অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলের উপস্থিতি বেআইনি। আদালত ইসরায়েলকে ‘অবিলম্বে সব ধরনের বসতি কার্যক্রম বন্ধ করতে’ বাধ্য করার পরামর্শ দেয়। তবে নেতানিয়াহু এই সিদ্ধান্তকে ‘মিথ্যার সিদ্ধান্ত’ বলে উড়িয়ে দেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও মাল্টা। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্য শর্তসাপেক্ষ স্বীকৃতির ঘোষণা দিলেও, অধিবেশনে তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো নিশ্চিত নয়।


