
প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা মোকাবিলা এবং সংবিধানস্বীকৃত অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী নগরীর হোটেল ওয়ারিশানের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় এসব কথা বলা হয়। ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রেসির (এনইডি)-এর সহায়তায় ‘সংহতি’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।

ব্লাস্টের পরিচালনা কমিটির সিনিয়র সদস্য অ্যাডভোকেট জমসেদ আলীর সভাপতিত্বে এবং রাজশাহী সমন্বয়কারী সামিনা বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট পারভেজ তৌফিক জাহেদী। তিনি বলেন, মানবাধিকার রক্ষায় আইনি সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যকর সমন্বয় জরুরি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব। সাম্প্রদায়িক উসকানি বা সহিংসতার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিরোধে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।
আরএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার মোসা. আরজিনা খাতুন, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার শরিফুল ইসলাম খান এবং পূজা উদযাপন পরিষদ মহানগরের সভাপতি অ্যাডভোকেট শরৎচন্দ্র সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্লাস্টের সিনিয়র আউটরিচ অফিসার ও ‘সংহতি’ প্রকল্পের টিম লিডার দুরদানা ফরিদ। তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিবদ্ধ করা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় পর্যায়ে সহিংসতা, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুতি এবং আইনি ও সামাজিক সেবার ঘাটতি চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই জেলা প্ল্যাটফর্মের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি জানান, জেলা প্ল্যাটফর্ম একটি ‘র্যাপিড রেসপন্স ফোরাম’ হিসেবে কাজ করবে। সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঝুঁকির তথ্য দ্রুত সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে এটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
সভায় ব্লাস্টের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট মাহপারা আলম, লিগ্যাল অফিসার আব্দুল কাদের জিলানী, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি দিল সেতারা বেগম চুনি, আদিবাসী মুক্তি মোর্চার সভাপতি ভাদু বাস্কে, আদিবাসী যুব পরিষদের সভাপতি উপেনরবি দাস, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মহানগরের সভাপতি রাজ কুমার সরকারসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় নির্বাচন-পরবর্তী নিরাপত্তা পরিস্থিতি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের পূর্ববর্তী ঘটনার মূল্যায়ন, আইনি সহায়তা ও সামাজিক সেবার সীমাবদ্ধতা এবং নতুন ঝুঁকির ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও মানবাধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


