
নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, তাঁর সঙ্গে অল্প সময়ের সাক্ষাৎ ও কথোপকথনের অভিজ্ঞতায় তিনি মনে করেছেন, তারেক রহমানের মধ্যে রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলি রয়েছে। তিনি বলেন, একটা কথা আছে, মর্নিং শোজ দ্য ডে। এই কয় দিনের যে কার্যক্রম, তাতে আশাবাদী হওয়া যায়।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গভবনে দৈনিক কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। গতকাল সাক্ষাৎকারটির প্রথম পর্ব প্রকাশের পর আজ শেষ অংশ প্রকাশিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, তারেক রহমানের শরীরে একজন মুক্তিযোদ্ধার রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে এবং তিনি এমন একটি পরিবার থেকে উঠে এসেছেন, যেখানে তাঁর বাবা রাষ্ট্রপতি এবং মা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আমি বিশ্বাস করি না যে আমরা কোনো নতুন দুর্যোগে পড়ব। তিনি যেন আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে সামনে এগিয়ে যান, এটাই আমার কামনা।’
বিদেশি গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর আর এখানে থাকতে চান না, এমন মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বক্তব্যটি অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আমি যেভাবে বলেছি, সেটি সেই প্রেক্ষাপটেই বোঝা দরকার। গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে যে রকম মানসিকভাবে চাপ দিয়েছে, নানা ঘটনায় আমাকে অপমানিত করা হয়েছে, সে কারণে আমার মনে এক ধরনের ক্ষোভ জন্মেছিল। তখনই আমি বলেছিলাম, এভাবে রাষ্ট্রপতি থাকা যায় না, চলে যেতে ইচ্ছা করে।
বিএনপি যদি নিজেদের মতো রাষ্ট্রপতি চায় কিংবা অভিশংসন হলে তিনি কী করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘ওগুলো কেন হতে দেব? আমি একজন সচেতন মানুষ। যদি তারা মনে করে আমি থাকি, তাহলে আমি থাকব। আর যদি বলে যে, সরে যাওয়া ভালো; তাহলে আমি নিজেই সম্মানজনকভাবে সরে যাব।’
এছাড়া গণঅভ্যুত্থানের পর তার ওপর বিভিন্ন পর্যায় থেকে জরুরি অবস্থা দেওয়ার চাপ ছিল বলেও উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতি।
দেশে সামরিক শাসন শুরুর কোনো আলাপ উঠেছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এমন কোনো আলাপ ওঠেনি। বরং আমি এখানে দৃঢ়ভাবে বলতে পারি যে আমাদের সেনাবাহিনী এখানে যে ভূমিকা রেখেছিল, তা অবশ্যই স্মরণীয়। স্মরণীয় এই কারণে যে সঠিক সময়ে সঠিক ভূমিকা রেখেছে তারা। তারা ইচ্ছা করলে মার্শাল ল দিতে পারত। চাইলে ইমার্জেন্সি, মানে জরুরি অবস্থা দিতে পারত, যেটা দেওয়ার জন্য চাপ ছিল আমার ওপর। কারণ রাষ্ট্রপতিই শুধু দিতে পারে ইমার্জেন্সি। তাই আমাকে বিভিন্ন পর্যায় থেকে, বিভিন্নভাবে জরুরি অবস্থা জারি করতে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছিল। এখানে একটা কথা না বললেই নয় যে ওই সময় একটা প্রতিবিপ্লব ঘটানোর উদ্যোগও ছিল।’


