
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসি (নেসকো)-এর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে দেওয়া তাঁর আধা সরকারি (ডিও) চিঠিকে ঘিরে রাজশাহীতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ বিভাগ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
রাজশাহী থেকে নেসকোর প্রধান কার্যালয় সরানোর প্রস্তাব ঘিরে বিতর্ক
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রীকে দেওয়া ডিও লেটারে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নেসকোর অপারেশনাল এলাকা উত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমের চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং পূর্ব-দক্ষিণের পাবনা জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। সদর দপ্তর রাজশাহীতে হওয়ায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন অপারেশনাল কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন করা কঠিন হচ্ছে। ফলে বগুড়ার মতো মধ্যবর্তী জেলায় সদর দপ্তর স্থাপন করা হলে কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে তিনি মত দেন।
তিনি চিঠিতে আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, ব্যয় সাশ্রয়, প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নয়নের জন্য নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তর একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হতে পারে। এ বিষয়ে দ্রুত নীতিগত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রীর সদয় সিদ্ধান্ত কামনা করেন তিনি।
এদিকে ৩ মার্চ বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখার উপসচিব ফারজানা খানম সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয়) মোহাম্মদ সানাউল হককে।
তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রাজশাহীতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান বলেন, “রাজশাহী থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা অতীতেও দেখা গেছে। নেসকোর প্রধান কার্যালয় সরানো হলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক হবে এবং এ বিষয়ে রাজশাহীবাসী আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।”
নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি পাইনি। সরকার যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব ফারজানা খানম বলেন, “প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটারের পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য কমিটি করা হয়েছে। কমিটি এক মাস কাজ করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেবে। এরপরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”


