
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমে দেশের ৭৮.৭ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট বলে এক জরিপে উঠে এসেছে। বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের পরিচালিত এই জরিপে সহযোগিতা করেছে বিআরএআইএন এবং ভয়েস ফর রিফর্ম নামের দুটি নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে এক গোলটেবিল আলোচনায় জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেন ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াৎ সারওয়ার।
এই জরিপে দেশের ১০ হাজার ৪১৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অংশ নেন। জরিপে অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মদক্ষতা, নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা এবং নির্বাচনি সংস্কার নিয়ে জনমত বিশ্লেষণ করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মদক্ষতা
জরিপে দেখা গেছে, ৭৮.৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমকে ‘ভালো’ বা ‘মধ্যম মানের’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তবে তরুণ, শিক্ষিত এবং নগরবাসীদের মধ্যে সন্তুষ্টির হার তুলনামূলকভাবে কম। এটি ইঙ্গিত করে যে, নগরাঞ্চলের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে।
নির্বাচন ও ভোট নিরাপত্তা
জরিপ অনুসারে, ৬৯.৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে অন্তর্বর্তী সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম। এছাড়া, ৭৭.৫ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন যে তারা নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন। তবে, পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তরুণ এবং নগরবাসীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংশয় রয়েছে, যা সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
জরিপে ৫৬.৬ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন, গত ছয় মাসে চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়েছে। এই ধারণা বিশেষ করে নগর এলাকার তরুণ এবং উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেশি প্রকট। উল্লেখযোগ্যভাবে, তরুণ এবং শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ তথ্যের প্রধান উৎস হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভর করছেন।
নির্বাচনের সময়সূচি ও অংশগ্রহণ
জরিপে অংশ নেওয়া ৮৬.৫ শতাংশ উত্তরদাতা নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়া, ৯৪.৩ শতাংশ ভোট দেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে, শিক্ষার্থী, উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি এবং কিছু পেশাজীবী নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি আপত্তি জানিয়েছেন।
নির্বাচনি সংস্কার
নির্বাচনি সংস্কারের ক্ষেত্রে, সংসদের উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি সম্পর্কে ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা অবগত নন। তবে, যারা এই পদ্ধতি সম্পর্কে জানেন, তাদের মধ্যে এটির প্রতি সমর্থন বেশি। তরুণ এবং উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে এই বিষয়ে সচেতনতা এবং সমর্থন তুলনামূলকভাবে বেশি।
গোলটেবিল আলোচনা
গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও যোগাযোগ বিষয়ে শিক্ষক ড. সাইমুম পারভেজ, বিডিজবস ডটকমের প্রধান নির্বাহী এ কে এম ফাহিম মাশরুর, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রশনা ইমাম এবং বিআরএআইএন-এর নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান। আলোচনায় জরিপের ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।


