
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ একটি বিষয়ে পৃথিবীর চ্যাম্পিয়ন এখন।

তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই পত্রিকায় দেখেছেন আমেরিকার ভিসা জাল। এটা একটা জালিয়াতের কারখানা বানিয়েছি আমরা।
ড. ইউনূস বলেন, কী হবে? এই প্রযুক্তি সে জালিয়াতির কাজে লাগাবে। যদি না আমরা আগে থেকে আমাদের নিজেদের সংশোধন করি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই দেশ জালিয়াতির কারখানা হবে না। এটাকে আমরা করতে চাই না। আমরা নিজ গুণে সারা দুনিয়াতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। আজ প্রযুক্তির এই বৈঠকে আমরা সেইভাবে মন ঠিক করি যে, আমরা জালিয়াতি থেকে নিজেদের হয়ে আসব। আমরা তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ করে দেব। মানুষের সহায়ক সরকার করব, ওই ভাবে আমাদের চলতে হবে।
জালিয়াতির কারণে বিদেশে ভিসা জটিলতার কথা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, আমি মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশের মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করছিলাম। তারা বহুদিন থেকে আমাদের প্রবেশাধিকার দিচ্ছে না। শুধু শ্রমিক না, বাংলাদেশের কোনো মানুষকে তারা প্রবেশাধিকার দেবে না।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তাদের বোঝানোর জন্য বললাম আমাদের যে মেরিনার, সারা পৃথিবীতে জাহাজ চালায়, আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত, তারা এ শিল্পে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তারা এক বন্দর থেকে আরেক বন্দরে যায়। তারা যখন ওই দেশের বন্দরে যায়, তখন কয়েকদিনের জন্য তারা ছুটি পায়। শহরে গিয়ে তারা একটু ঘোরাফেরা করে। আসা যাওয়া করতে পারে, জাহাজ ছেড়ে স্থলে আসতে পারে। বাংলাদেশি নাগরিক হলে তাদের ওই দেশে নামতে দেওয়া হয় না।
তিনি বলেন, আমি মিনতি জানালাম যে, বেচারারা জাহাজে জাহাজে ঘুরে, অন্তত তাদের জন্য একটু পারমিশন দাও। বলে, আমাদের নিয়মটা সবার জন্য প্রযোজ্য। আমি বললাম আমার আবেদনটা গ্রহণ করো, শুধু তাদের জন্য দাও। কয়েকমাস পরে শুনলাম মেরিনারদের সেই সুযোগ দিয়েছে। এই ঘটনা একটা-দুইটা দেশ না, লম্বা লিস্ট, যাদের দেশে আমাদের প্রবেশাধিকার নাই।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ওই মন্ত্রী যার সঙ্গে মেরিনারদের নিয়ে আলাপ করলাম। তিনি বলেন, দেখেন আপনি বন্ধু মানুষ, আপনাকে পুরো জিনিসটা আমি বলছি, আমি নিজে গিয়ে দেখেছি, কেন বাংলাদেশিদের রিজেক্ট হচ্ছে। শিক্ষার সার্টিফিকেট ভুল, জালিয়াত। বলল—একজন মহিলা সে এখানে এসেছে ডাক্তার হয়ে। তার ভিসা হলো ডাক্তার ভিসা। আমি দেখেই বুঝলাম ডাক্তার হওয়ার তার কোনো ক্ষমতা নাই। তার চেহারায় বলে না সে ডাক্তার। স্টাফরা তার সব কাগজপত্র দেখিয়ে বলল, তার সব কিছু ভুয়া, জাল। ওই মন্ত্রী বললেন, তার অ্যাসেসমেন্টে ওই মহিলা সর্বোচ্চ গৃহকর্মীর কাজ করবে। কিন্তু নিয়ে এসেছে ডাক্তারের সার্টিফিকেট।


