
মশক নিধনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও চট্টগ্রাম নগরীতে কমছে না মশার উপদ্রব। বরং বর্ষা মৌসুমে বাড়ছে এডিস মশার বিস্তার, সঙ্গে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার লার্ভার ঘনত্বও পাওয়া গেছে উদ্বেগজনক মাত্রায়। কোটি টাকা ব্যয় করেও মিলছে না আশানুরূপ সুফল।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৯৭ জন। মারা গেছেন তিনজন। এর মধ্যে জুলাই মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ৫৩৬ জন। আগস্টের প্রথম ১৯ দিনে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৬৬৩ জন। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ১৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন।

চট্টগ্রামে সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকে। গত কয়েক বছরের তথ্যেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০২২ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ২ হাজার ৬৪০ জন। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ হাজার ৩ জনে। ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৩৭ এবং ২০২৫ সালে ৩ হাজার ৬০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন।
বিশ্ব মশা দিবসে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু সিটি করপোরেশনের ওপর নির্ভর করলে হবে না। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনসহ আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণে নগরবাসীকেও ভূমিকা রাখতে হবে। কারণ এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, জুলাই ও আগস্টের প্রথম দিকের আক্রান্তের সংখ্যা আগের ছয় মাসের মোট আক্রান্তের প্রায় দ্বিগুণ। বর্ষাকালে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়। বিভিন্ন উপজেলায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলেও ৯৯ শতাংশের বেশি রোগী সুস্থ হয়ে উঠছেন। মারা যাওয়া তিনজনই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দেরি করেছিলেন।


