
নিজস্ব প্রতিবেদক
মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের ড্রোন হামলার সৌদি আরবের অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান। তেহরানের দাবি, শুধু মক্কার দিকে একটি ড্রোন যাওয়ার পর সেটি প্রতিহত করা হয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে হামলার জন্য দায়ী করা যথেষ্ট নয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ অবস্থান জানান। তিনি বলেন, ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোর বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হামলা বা হুমকি নিন্দনীয়। বিশেষ করে মক্কার মতো পবিত্র স্থানের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি গ্রহণযোগ্য নয়। তবে একটি ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ আনার আগে আরও তথ্য-প্রমাণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন শনাক্ত করে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ড্রোনটি পবিত্র নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয় বলে জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান।
সৌদি কর্তৃপক্ষ ড্রোনটি হুথিদের বলে দাবি করলেও ইয়েমেনের হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফলে ঘটনাটি নিয়ে সৌদি আরবের অভিযোগ এবং হুথিদের অস্বীকৃতির মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান তৈরি হয়েছে।
বাঘাই বলেন, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তাকে রাজনৈতিকীকরণ করা উচিত নয়। একই সঙ্গে কোনো ঘটনার প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত না করে সেটিকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানো থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ইরানের মুখপাত্র আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অতীতে একাধিক ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ অভিযানের ঘটনা ঘটেছে বলে তেহরান মনে করে। তবে এ ধরনের দাবি নিয়ে কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন বলেও তার বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে।
এদিকে, মক্কার কাছে ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনার পরদিন সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি প্রতিহত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে তাইফ প্রদেশে একজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। তবে এই ঘটনার সঙ্গে মক্কামুখী ড্রোনটির সরাসরি সম্পর্কের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।


