
রাজশাহী মহানগরীর বিনোদপুর বাজার এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় খাবারের বিল ও খাবারের মান নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত একজন আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ১০টার দিকে বিনোদপুর বাজারের ‘বাংলা টিফিন’রেস্তোরাঁকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। আহত কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দীন নগরীর কাজলা পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত। ককটেলের আঘাতে তাঁর বাম পায়ে গুরুতর জখম হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রাতে রমজান নামের এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে বাংলা টিফিনে খাবার খেতে যান। খাবারের মান ও বিল নিয়ে রেস্তোরাঁর কর্মচারীদের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, রেস্তোরাঁর এক কর্মচারী মাংস কাটার চাপাতি নিয়ে তাঁকে মারতে উদ্যত হন। পরে রমজান তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
এর কিছু সময় পর রমজানের সমর্থক পরিচয়ে কয়েকজন যুবক রেস্তোরাঁয় গিয়ে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শুরু হয় মারামারি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দীন আহত হন।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম কবির কালবেলাকে জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রমজানের লোকজন রেস্তোরাঁয় গিয়ে ভাঙচুর ও মারামারিতে জড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গেলে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দীন আহত হয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রমজান। তিনি বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলাম। খাবার নিয়ে কিছু কথা-কাটাকাটি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু পরে আমি বাসায় চলে আসি। বর্তমানে বাসাতেই আছি। বাংলা টিফিনে হামলা কিংবা পুলিশ সদস্যকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যারা এসব করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


