
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দীন আম্মারের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৫ জন নামীয় শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাত আরও ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে রাকসু জিএসের কার্যালয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ, মারধর, হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মতিহার আমলী আদালতে সালাহউদ্দীন আম্মার বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৪১, ৩৪৮, ৩২৪ ও ৪২৭ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্ত নামীয় আসামিরা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মো. আনাস, সংস্কৃত বিভাগের মো. মাহমুদ হাসান মাহিন ও মামুন মিয়া, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মাহফুজুল ইসলাম নয়ন এবং ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের আজহারুল ইসলাম।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৭ জুলাই দুপুরে রাকসু ভবনের ২০২ নম্বর কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ করার সময় একদল অস্ত্রধারী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সালাহউদ্দীন আম্মারের ওপর হামলা চালায়। আসামিরা তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এ সময় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়, যার আনুমানিক ক্ষতি ১ লাখ টাকা।
হামলার সময় রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব এবং শিক্ষার্থী মেহেদী বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও আক্রমণ চালানো হয়। অভিযোগে বলা হয়, আসামি আনাস লোহার রড দিয়ে নাজমুস সাকিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন, যাতে সাকিবের হাত রক্তাক্ত জখম হয়। এছাড়া মাহমুদ হাসান মাহিনের আঘাতে মেহেদীও আহত হন।
মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির জানান, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পিবিআইকে (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে মামলার বিষয়ে রাকসু জিএস সালাহউদ্দীন আম্মারের বক্তব্যে ভিন্ন কৌশল লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বলেন, “আমার সম্পাদকদের ওপর হামলা হয়েছে। এটি মূলত একটি ‘কনসার্ন’ তৈরি করে রাখা। ভবিষ্যতে সরকার যেন কোনো রাজনৈতিক চাল চালতে না পারে, সেজন্যই আমার সম্পাদকদের যুক্ত করে এই মামলাটি করা হয়েছে।” রাজনৈতিকবিশ্লেষণ
আসামিদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


