
হুজাইফা, স্টাফ রিপোর্টারঃ

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার, নিউমার্কেট ও হড়গ্রাম নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটে শুরু হয়েছে ঈদের প্রস্তুতি। দোকানগুলোতে উঠছে নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক, স্বর্ণের অলংকার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা পণ্য। তবে ঈদ ঘনিয়ে এলেও এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি কেনাকাটার বাজার। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাজারে কিছুটা ব্যস্ততা বাড়ছে। তবে মূলত রমজানের শেষ দশকেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ে। তাই সামনে বাজার আরও জমে উঠবে বলে আশা করছেন তারা। সোমবার (০৯ মার্চ) নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজশাহীর মার্কেটে এখনও জমে ওঠেনি ঈদের বাজার
রমজানের শেষ দিকে জমে উঠবে রাজশাহীর ঈদ বাজার, ব্যবসায়ীদের আশা
ঈদ সামনে, তবু রাজশাহীর মার্কেটে ক্রেতা কম
সাহেব বাজার সোনাদিঘী মোড়ের পুরাতন ব্যবসায়ী রাজ্জাক টেইলার্সের মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “মানুষ এখনো কর্মব্যস্ততার মধ্যে রয়েছে। তবে অনেকে বাজারে ঘুরতে আসছেন। সাধারণত ২০ রমজানের পর থেকেই ঈদের বাজার জমে ওঠে।”

গণকপাড়ার স্যান্ডেল ব্যবসায়ী আমজাদ বলেন, “ক্রেতারা এখন পণ্য পছন্দ করছেন এবং কেউ কেউ বুকিং দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা ভালো মানের পণ্য সংগ্রহে রেখেছি। পুরোপুরি বাজার জমে না উঠলেও ক্রেতা ধীরে ধীরে বাড়ছে।”
শাহেব বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী ‘আলম শাড়ি ঘর’-এর মালিক মো. এমিলুর রহমান এমিল বলেন, “রমজানের আগে শবে বরাতের পর অনেক ক্রেতা ঈদের উদ্দেশ্যে একসঙ্গে কেনাকাটা করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ ভালো ব্যবসা হয়েছে। এখন নতুন ক্রেতারা আসতে শুরু করেছেন। সামনে আরও ভালো ব্যবসা হবে বলে আশা করছি।”
নিউমার্কেটের বিভিন্ন শোরুমে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্রেতারা আসছেন তবে এখনো সংখ্যা সীমিত। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, রমজানের শেষ দিকে ঈদ এগিয়ে এলে ক্রেতা আরও বাড়বে।
হড়গ্রাম নিউমার্কেটের পুরনো ব্যবসায়ী ও বাজার কমিটির আহ্বায়ক আলহাজ শহিদ উদ্দিন বলেন, “ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে রাজশাহীর প্রাচীন এই মার্কেট সাজানো হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে কেনাকাটা করতে আসেন। তাদের স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতায় অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি বসানো হয়েছে। এছাড়া বাজার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে কোনো ক্রেতা প্রতারিত না হন।
হড়গ্রাম নিউমার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বাবু বলেন, “প্রতি বছরের মতো এবারও রমজানের ২০ রোজার পর থেকেই মূলত ঈদের বাজার জমে উঠবে। আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পদ্মা পাড়ের চরের মানুষ এই বাজারে বেশি কেনাকাটা করতে আসেন, কারণ এখানে কম দামে মানসম্মত পণ্য পাওয়া যায়।”
স্বর্ণের দোকান মুন্নি জুয়েলার্সের মালিক মো. মাসুদ বলেন, “নতুন ডিজাইনের স্বর্ণের অলংকার অনেকেরই পছন্দের তালিকায় থাকে। তবে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় অর্ডার কিছুটা কমেছে।”
ক্রেতা সালমা আক্তার বলেন, “স্বর্ণের দাম বাড়ায় পছন্দের অলংকার কিনতে অনেকেই হিমশিম খাচ্ছেন। সরকার যদি দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, তাহলে ধনী, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত—সবাই স্বস্তি পাবে।”
মুদি ব্যবসায়ী রিহান ট্রেডার্সের মালিক মো. মিন্টু বলেন, “রমজানের শুরুতে সাধারণত কেনাকাটা কম থাকে। অনেকেই শেষ সময়ে বাজার করতে পছন্দ করেন। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ক্রেতারা কিনছেন।” তিনি আরও বলেন, “ঈদের সময় অতিথি আপ্যায়নের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন থাকে। তাই কয়েক দিনের মধ্যেই খাদ্যপণ্যের বাজারও জমে উঠবে বলে আশা করছি।”
স্টেশনারি দোকান আলমগীর ট্রেডার্সের মালিক নাবিউল মোর্শেদ বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও আশা করছি, রমজানের মাঝামাঝি সময় পার হলেই রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়বে এবং জমে উঠবে ঈদের কেনাকাটা।”


