
আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী এমপিরা শপথ গ্রহণ করবেন। ফলে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত নতুন সরকার পাচ্ছে দেশ। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠন হতে যাচ্ছে এবারের নতুন সরকার। বিকেলে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথের পর নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন।
প্রথা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। আর সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

ইতোমধ্যেই শপথ অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়। সকালে এমপিদের শপথ অনুষ্ঠানে অতিথি না থাকলেও বিকালে মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে হাজার খানেক দেশি বিদেশি অতিথি অংশ নেবেন। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে থাকছেন দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্র্রী ও অন্যান্য প্রতিনিধিরা।
আজ সকাল ১০টায় নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এবং বিকাল ৪টায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রেওয়াজ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ জাতীয় সংসদ ভবনে এবং মন্ত্রিসভার শপথ বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
এবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাওয়া দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পছন্দ অনুযায়ী সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকা হতে পারে বলে জানা গেছে।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অস্থায়ী মঞ্চ, অতিথি গ্যালারি, ভিভিআইপি জোন ও গণমাধ্যম কর্নার তৈরির কাজ গতকাল শেষ হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আলোকসজ্জা এবং গণআন্দোলনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামত শেষ করে নতুন সাজে প্রস্তুত করা হয়েছে সংসদ ভবন।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, এমপি ও মন্ত্রীদের শপথ পড়ানোর জন্য সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন তার সবটুকু সম্পন্ন করা হয়েছে। আশা করি, সবকিছু ভালোভাবে সম্পন্ন হবে।
পুরো সংসদ ভবন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠান সরাসরি দেখানোর জন্য সংসদ ভবনের বাইরে প্রস্তুত লাইভ স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২ আসন, জামায়াতে ইসলামী জোট ৭৭ এবং স্বতন্ত্র ও অন্যরা মিলে ৮টি আসন পেয়েছে। দুটি আসনের ফল স্থগিত রয়েছে এবং প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর ৩ আসনে নির্বাচন হয়নি। একই দিন অনুষ্ঠিত হয় জুলাই সনদের ওপর গণভোটে বিপুল ভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়।


