
রাজশাহীর পবা উপজেলায় এক কৃষকের বাড়িতে নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুত রাখা ১২৯ বস্তা সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় মামুনুন্নবী মিলন নামে ওই কৃষককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরে জব্দ করা সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইবনুল আবেদীনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মামুনুন্নবী মিলনের বাড়ির গুদাম থেকে ৪৮ বস্তা এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) ও ৮১ বস্তা টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) উদ্ধার করা হয়।
প্রশাসন বলছে, নিয়ম না মেনে নির্ধারিত সীমার বেশি সার মজুত রাখার অভিযোগে কৃষককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরে জব্দ করা সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করা হয়। সার কিনতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেন কয়েকজন কৃষক।
অভিযানে ইউএনও মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পবা উপজেলায় সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়মিত ডিলারদের গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্র তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের বাড়িতে নির্ধারিত পরিমাণের বেশি সার মজুত করা হয়েছে কি না, সেটিও দেখা হচ্ছে। নিয়ম না মেনে সার মজুত রাখায় ওই কৃষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘কেউ অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা কৃষকদের হয়রানি করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের জন্য সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসনের তদারকি অব্যাহত থাকবে।’
তবে কৃষক মামুনুন্নবী মিলনের দাবি, সারগুলো তিনি বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করেননি। নিজের জমিতে আলু চাষের জন্য আগের মৌসুমে কেনা সার অবশিষ্ট থাকায় সেগুলো রেখে দিয়েছিলেন।
মামুনুন্নবী মিলন বলেন, ‘আমি প্রতি বছর প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করি। গত বছর ৪৫ বিঘা জমিতে আলু করেছিলাম। আলু চাষের পর ৮১ বস্তা টিএসপি ও ৪৮ বস্তা এমওপি সার বেঁচে যায়। আলু চাষের সময় প্রয়োজনমতো সার পাওয়া যায় না। তাই চলতি মৌসুমের জন্য সারগুলো রেখে দিয়েছিলাম।’
এদিকে জব্দ করা সার সরকারি দামে কিনতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেন স্থানীয় কৃষক মঞ্জু। তিনি বলেন, ‘এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে কপি চাষ করেছি। সারের খুব সংকট। সারের অভাবে কপির জমিতে দিতে পারছিলাম না। এখানে সরকারি মূল্যে সার কিনতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত। এক বস্তা টিএসপি ও এক বস্তা এমওপি সরকারি দামে পেয়েছি।’
অভিযানে পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক ও মো. রায়হান উদ্দিন এবং উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষকদের কাছে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুত ঠেকাতে ডিলারদের গুদাম, বিক্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।


