
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে থেকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ‘রাবির সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নারী-সংক্রান্ত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের রিডিং রুমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তারা এ ঘটনায় শিবিরের নেতা-কর্মী ও রাকসুর সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানান।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহি, সিনিয়র সভাপতি সাকিলুর রহমান সোহাগ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু, যুগ্ম সম্পাদক হিমেল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কাজী ফেরদৌস, জেমস ও মাছুম বিল্লাসহ অন্যরা। মানববন্ধনের একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও এতে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাবি শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত কয়েকজন অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নিলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনতে কর্মসূচি নেওয়া হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মানববন্ধন থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো— আগামী ১০ দিনের মধ্যে হামলাকারীদের ছাত্রত্ব বাতিল ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা, ঘটনায় জড়িত রাকসু প্রতিনিধিদের পদ থেকে অপসারণ ও বহিষ্কার, প্রক্টর অফিসে জমা দেওয়া অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, নারী শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের বর্তমান প্রশাসক অধ্যাপক ড. এস এম কামরুজ্জামান জানান, ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন লাইব্রেরি ও অন্যান্য স্থাপনায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটি পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় মূলত তিনটি স্থান পরিদর্শন করবে। এগুলো হলো-বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, রাকসু ভবন এবং প্রক্টর দপ্তর।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটির মূল লক্ষ্য হলো ঘটনার প্রকৃত কারণ ও উৎস অনুসন্ধান করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনাগুলোতে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না তা যাচাই করা। তবে এখন পর্যন্ত তারা কোনো ভিডিও ফুটেজ বা আলোকচিত্র পর্যালোচনা করেননি। পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তদন্ত কমিটির সুপারিশক্রমে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান জানান, সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় কার্যক্রম চলমান আছে।


